ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

লাখো মানুষের অশ্রু আর ‘ট্রাম্পকে হত্যা’র স্লোগানে মাশহাদে খামেনির দাফন সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

লাখো মানুষের অশ্রু আর ‘ট্রাম্পকে হত্যা’র স্লোগানে মাশহাদে খামেনির দাফন সম্পন্ন

সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ শোকযাত্রা ও লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাহিত করা হলো ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের পবিত্র হযরত ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো শতাব্দীর অন্যতম বৃহৎ এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকালে ইরাক থেকে খামেনির কফিন মাশহাদে পৌঁছালে সেখানে আক্ষরিক অর্থেই জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। মাজার প্রাঙ্গণে তাঁর শেষ জানাজায় ইমামতি করেন ছেলে মোস্তফা খামেনি। এরপর মাজারের ‘দার আল-দিকর রাওয়াক’ হলওয়েতে তাঁকে দাফন করা হয়।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার এই শেষ পর্বে উপস্থিত ছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি এজেয়ি, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবের এবং মাশহাদের জুমার নামাজের ইমাম আয়াতুল্লাহ আহমাদ আলামোল-হোদাসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কফিনের অপেক্ষায় মাশহাদের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে। বিদায়ের এই শোকাবহ পরিবেশের মধ্যেও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। কালো শার্ট পরিহিত পুরুষ ও কালো চাদর পরা নারীদের হাতে ছিল শিয়া ঐতিহ্যের ‘লাল পতাকা’ যা মূলত রক্তের বদলা বা প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়।

বিক্ষুব্ধ নারীদের হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তাঁরা সমস্বরে স্লোগান দেন, “সর্বোচ্চ নেতার রক্তের কসম, ট্রাম্প, আমরা আপনাকে মেরেই ছাড়ব।”

মাশহাদের এক শোকাহত বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের চোখে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। আলোচনার টেবিলে কী চলছে বা সরকারের নীতি কী, তা আমরা জানি না। আমরা সবাই লাল পতাকা হাতে পথে নেমেছি কেবল প্রতিশোধের দাবিতে।”

মাশহাদে পৌঁছানোর আগে ইরাকেও নজিরবিহীন জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আরবাঈনের পথ ধরে কফিন কারবালায় নেওয়ার আগে নাজাফে ইমাম আলীর মাজারের চারপাশে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ এক বিশাল বিদায় মিছিলে অংশ নেন।

একনজরে সপ্তাহব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রুট ও সময়সূচি:

গত শুক্রবার: ইরানজুড়ে শোকানুষ্ঠানের সূচনা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা নিবেদন।

শনি ও রোববার: তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লায় লাখো মানুষের শ্রদ্ধা, কোরআন তিলাওয়াত ও শোকগাঁথা পাঠ। রোববার প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও স্পিকার বাকের কলিবফের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার: রাজধানী তেহরানে স্মরণকালের প্রধান শোকযাত্রা।

মঙ্গলবার: পবিত্র কোম নগরে বিদায় সমাবেশ।

বুধবার: ইরাকের ধর্মীয় পণ্ডিতদের অনুরোধে নাজাফ ও কারবালায় কফিন স্থানান্তর এবং বিশাল জানাজা।

বৃহস্পতিবার: জন্মস্থান মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রথম প্রহরে নিজ বাসভবনে পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মার্চ মাসেই তাঁর শেষকৃত্য আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন-ইসরায়েল জোটের সঙ্গে ইরানের লাগাতার যুদ্ধ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে তা এতদিন স্থগিত রাখা হয়েছিল।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!