সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার অসংখ্য দিনমজুর, নিম্নআয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ। দুর্যোগের এই কঠিন ও সংকটময় সময়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। দুর্যোগকালীন সময়ে প্রান্তিক মানুষের ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এদিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৬০টি পরিবারের হাতে চাল, ডাল, আলু ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণের সময় বিজিবি সদস্যরা অসহায় মানুষগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। বিপদের মুহূর্তে এমন অপ্রত্যাশিত সহায়তা পেয়ে বিজিবির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উপকৃত পরিবারগুলো।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবির এই উদ্যোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্তের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যেকোনো জাতীয় সংকটের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও দুর্যোগে মানুষের সহায়তায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে বাহিনীর এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিজিবির এমন মানবিক কার্যক্রম সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সঙ্গে বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং ওইসব এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :