হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত এক সপ্তাহে এটি তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের তৃতীয় দফার আক্রমণ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে প্রলয়ংকরী হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট হামিদরেজা দেহঘানি নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে মেহের নিউজ।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, গোলাবারুদের বিশাল গুদাম, নৌ-সামরিক সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসি’র একের পর এক হামলার জবাব দিতেই এই বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও চুপ করে নেই। জর্ডান, কাতার, কুয়েত ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
কাতারের রাজধানী দোহার আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও কাতার দাবি করেছে, অধিকাংশ মিসাইল প্রতিহত করা হয়েছে, তবে ধ্বংসাবশেষ পড়ে শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে।
উত্তাল এই পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শোকবার্তা পাঠিয়েছে, যা কূটনৈতিক মহলে কিছুটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, “হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত এবং ইরান এটি নিয়ন্ত্রণ করছে না।”
অন্যদিকে, আইআরজিসি কঠোর অবস্থানে থেকে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ তারা বন্ধ রেখেছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে ওমানের রাজধানী মাস্কটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানি কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি দুই উপকূলীয় দেশের (ইরান ও ওমান) মধ্যকার আলোচনার ভিত্তিতে হওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌম অধিকারকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোন আলাপে আরাঘচিকে বলেছেন, “বিরোধ নিষ্পত্তি ও দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো সংলাপ ও কূটনীতি।”
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পক্ষই যেহেতু সামরিক শক্তি প্রদর্শনে অটল, তাই এই সংকট নিকট ভবিষ্যতে প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :