দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এক ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৩ জন। চোখের পলকে আগুন লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাণ বাঁচাতে হাজারো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলমেরিয়া প্রদেশের লস গালার্দোস এবং এর পার্শ্ববর্তী ছোট্ট গ্রাম বেদার। উদ্ধারকর্মীরা এসব এলাকা থেকেই নিহতদের অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করেছেন। আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি বিষয়কমন্ত্রী আন্তোনিও সান্স জানিয়েছেন, আগুন এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে সাধারণ মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগটুকুও পায়নি। নিহতদের বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানের সময় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যারা দাবানল থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাড়িটির স্টিয়ারিং ডান পাশে থাকায় তারা ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতর ইতোমধ্যে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানিয়েছেন, স্পেনে অনেক বেলজিয়াম নাগরিকের ছুটি কাটানোর দ্বিতীয় বাড়ি রয়েছে। যাদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাদের সন্ধানে কনস্যুলার সেবা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, দাবানলে গুরুতর দগ্ধ ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্ট ও সামান্য দগ্ধ হওয়ার কারণে আরও ৪ জনকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আন্দালুসিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ানমা মোরেনো জানিয়েছেন, লস গালার্দোস এলাকার কাছে একটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ার পর এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে, যা মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের বনাঞ্চল ও লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান `এন্ডেসা` দাবি করেছে, ভেঙে পড়া ওই বিদ্যুতের লাইনটি সচল ছিল না এবং সেটি তাদের মালিকানাধীনও নয়। আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অনেকেই প্রথমে এটিকে তীব্র ঝড় ভেবেছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়। দাবানল নিয়ন্ত্রণে এবং উদ্ধারকাজে বড় পরিসরে মাঠে নেমেছে স্পেনের সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী।
আগুন নিয়ন্ত্রণে সামরিক জরুরি ইউনিটের ২২০ জন সেনা সদস্য ও ৭০টি বিশেষ যান মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সিভিল গার্ডের ১৬০ জন সদস্য উদ্ধারকাজ, আটকে পড়াদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আগুনের উৎস অনুসন্ধানে কাজ করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
চলতি গ্রীষ্মে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সে একের পর এক দাবানলের ঘটনা ঘটছে। স্পেনের অনেক অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা বনাঞ্চলের এই আগুনকে আরও ভয়ংকর রূপ নিতে সহায়তা করছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :