ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

প্রবাসীর মরদেহ গ্রহণে বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কি হয়েছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

প্রবাসীর মরদেহ গ্রহণে বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কি হয়েছে?

বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মৃত্যু এমনিতেই শোকাবহ, কিন্তু সেই মরদেহ দেশে আনার পর বিমানবন্দরে তা গ্রহণ করতে গিয়ে স্বজনদের অনেক সময় পোহাতে হয় আরেক দফা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ওমর ফারুক সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায় গত ডিসেম্বরের এক রাতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতায় টানা ১৪ ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে ছিল তার লাশ।

তার ভায়রা নুর ইসলাম জানান, ওয়ারিশ সনদসহ নানা আইনি কাগজপত্রের অজুহাতে তাদের চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তবে প্রবাসী কর্মীদের মরদেহ দেশে আসার পর তা গ্রহণে অহেতুক বিলম্ব বা হেনস্থার কোনো সুযোগ এখন আর নেই বলে জোরালো দাবি করেছেন বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান।

বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীর মরদেহ এবং দাফন খরচের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দিষ্ট আইনি কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তির পাসপোর্টের ফটোকপি, স্থানীয় চেয়ারম্যান বা কমিশনারের দেওয়া ওয়ারিশ সনদ, মৃতের স্ত্রী বা পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, মৃত্যু সনদ, বাংলাদেশ দূতাবাসের এনওসি এবং এয়ারওয়েজ বিলের মূলকপি উল্লেখযোগ্য।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শোকাহত স্বজনরা এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। সঠিক তথ্যের এই ঘাটতির সুযোগ নেয় বিমানবন্দরে সক্রিয় একটি অসাধু দালাল চক্র।

সামান্য পরামর্শ দেওয়া বা চেয়ারম্যানের সনদের ছবি আনানোর কথা বলেও তারা অসহায় স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে নিবন্ধিত কর্মীদের ক্ষেত্রে বা সরকারি সংস্থাগুলোর নজরে এলে তারা দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।

সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক জানান, বিদেশে কোনো প্রবাসী কর্মীর মৃত্যু হলে দেশে আসামাত্রই দ্রুততম সময়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দাফন ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। এছাড়া শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকেও এখন প্রবাসীদের মরদেহ সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেশের যেকোনো প্রান্তে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই সেবায় নতুন দুটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সও যুক্ত করেছেন। এর একটি বড় প্রমাণ দেখা যায় গত ১৮ এপ্রিল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া থেকে ৩৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছায় এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে ফেরত আনাটাও অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। এজন্য সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ের ছাড়পত্র, স্থানীয় হাসপাতাল ও পুলিশের আইনি প্রতিবেদন, এয়ারলাইন্সের বিশেষ অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী ফিউনারেল হোম থেকে এমবামিং সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়।

অনেক সময় পাসপোর্ট নম্বর বা সঠিক তথ্য না থাকায় এই আইনি প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হয়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীদের মৃত্যুর হারও বেশ উদ্বেগজনক; ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৮১৩ জন এবং ২০২৩ সালে ৪ হাজার ৫৫২ জন প্রবাসী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে। এসব জটিলতা এড়াতে এবং প্রবাসীদের মরদেহ স্বল্পতম সময়ের ফ্লাইটে দেশে পাঠাতে দূতাবাসগুলোর লেবার উইং এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!