ঢাকা রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলভান্ডার নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:০৪ এএম

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলভান্ডার নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ৬ হাজার কোটি ব্যারেলের বেশি তেলের মজুত নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক লেনদেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে আমেরিকার তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে এবং সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল। এর আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়। এরপরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুতের অধিকারী দেশটির তেলসম্পদ কাজে লাগানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই নতুন চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই চুক্তি তাঁর দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশটির হাইড্রোকার্বন শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসবে।

রদ্রিগেজ জানান, চুক্তির আওতায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা আছে এমন ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি এতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে এবং ভেনেজুয়েলা রাষ্ট্রের জন্য ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে। এটি সমগ্র অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য আনতেও সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

চুক্তির বিস্তারিত রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে এই চুক্তির অধীনে গঠিত একটি যৌথ উদ্যোগের ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে মার্কিন সরকারের হাতে। ভেনেজুয়েলার একটি ‘অভিজ্ঞ বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের’ সঙ্গে এই উদ্যোগ পরিচালিত হবে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ এই যৌথ উদ্যোগকে তেলক্ষেত্রগুলো পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের অনুমোদন দিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে ‘আমেরিকান ও ভেনেজুয়েলার উভয় জনগণের জন্য একটি বিশাল বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে, যার পরিমাণ আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে দেশটির তেল উত্তোলন ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

ট্রাম্প মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্য অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা অতীতে ‘একতরফাভাবে আমেরিকান তেল, সম্পদ এবং তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম দখল করে বিক্রি করেছে’, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!