ইতিহাস বড়ই অদ্ভুত। সে তার নিজের প্রয়োজনে কিছু দিনক্ষণ, কিছু তারিখকে সাধারণের কাতার থেকে তুলে এনে অমরত্বের মুকুট পরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের ক্যালেন্ডারে তেমনি একটি অমর, অবিনশ্বর, রক্তস্নাত অথচ পরম আরাধ্য একটি তারিখ ৫ আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়; এটি একটি জাতির পুনর্জন্মের দিন, এটি ১৫ বছরের জমতে থাকা বোবাকান্না আর দীর্ঘশ্বাসের অবসানের দিন। এই দিনটি আমাদের শিখিয়েছে ভয়ের চাদর ছিঁড়ে যখন কোনো জাতি একবার ঘুরে দাঁড়ায়, তখন স্বৈরশাসকের বুলেট আর বারুদ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে।
পত্রিকার এই পাতায় যখন এই লেখাটি পড়ছেন, তখন হয়তো আপনার চারপাশে শান্ত পরিবেশ। কিন্তু একটু চোখ বন্ধ করে ফিরে যান তো জুলাই এবং আগস্টের সেই বিভীষিকাময় অথচ অসীম সাহসিকতার দিনগুলোতে! বুকের ভেতরটা কি হু হু করে উঠছে না? চোখের কোণে কি অজান্তেই পানি জমছে না? জমাটাই স্বাভাবিক। কারণ, এই স্বাধীনতা কোনো আকাশ থেকে পড়া উপহার নয়; এই মুক্তি এসেছে আমাদের ভাইদের বুকের তাজা রক্ত, আমাদের বোনদের আর্তনাদ আর শত শত মায়ের শূন্য কোল থেকে উঠে আসা গগনবিদারী আহাজারির বিনিময়ে।
ভয়ের অভয়ারণ্যে বোবা এক জাতি: ৫ আগস্টের এই বিস্ফোরণ একদিনে হয়নি। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বদ্বীপটিকে পরিণত করা হয়েছিল এক ভয়ের অভয়ারণ্যে। কথা বলার আগে এদিক-ওদিক তাকাতে হতো। চায়ের দোকানে বসে রাজনীতি নিয়ে কথা বললে গুম হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। `আয়নাঘর` নামের এক বিভীষিকা মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। কেউ নিখোঁজ হলে পরিবার জানতও না কোথায় গিয়ে কার কাছে বিচার চাইবে। ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা হরণ করে, এক চরম অহংকার আর দাম্ভিকতার পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই পাহাড়ের চূড়ায় বসে সাধারণ মানুষকে ভাবা হতো নিতান্তই তুচ্ছ।
কিন্তু অহংকারের পতন যে অবশ্যম্ভাবী, তা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে। এবারও করল।
অধিকারের দাবি যখন পরিণত হলো বারুদে: জুলাই মাসের শুরুতে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নামল, তখন তাদের দাবি ছিল একেবারেই যৌক্তিক এবং অহিংস। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, ছিল কেবল বই-খাতা, প্ল্যাকার্ড আর বুকে বৈষম্যহীন একটি সমাজের স্বপ্ন। কিন্তু এই অহিংস আর ন্যায্য দাবিকে রাষ্ট্রযন্ত্র কীভাবে মোকাবিলা করল? তারা লেলিয়ে দিল তাদের পেটোয়া বাহিনী। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য আর চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে উসকে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীদের।
যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা হলো, রাজপথে যখন আমাদের বোনদের রক্ত ঝরল, তখন পুরো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে একটা স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল। সেই স্ফুলিঙ্গই যে দাবানল হয়ে পুরো স্বৈরতন্ত্রকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে, তা হয়তো শাসকেরা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি।
আবু সাঈদ: এক মৃত্যুঞ্জয়ী বীরের উপাখ্যান: ১৬ জুলাই। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছেলেটির কথা ভাবুন। নাম তার আবু সাঈদ। দরিদ্র পরিবারের এক মেধাবী সন্তান। পরিবারের কত স্বপ্ন ছিল তাকে ঘিরে! কিন্তু সেদিন সে সব স্বপ্ন ভুলে গিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াল বুলেটের সামনে। দুই হাত প্রসারিত করে সে যেন পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল "মারো! আর কত গুলি আছে তোমাদের? আমি বুক পেতে দিলাম, দেখি তোমাদের বুলেটের জোর বেশি, নাকি আমার সাহসের!"
পুলিশের শটগান থেকে রাবার বুলেট আর ছররা গুলি ঝাঁজরা করে দিল তার বুক। সে তবুও দাঁড়িয়ে রইল। আবার গুলি। শরীরটা টলে উঠল, কিন্তু সে হার মানল না। লুটিয়ে পড়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সে এক ইঞ্চিও পিছু হটেনি। আবু সাঈদের ওই প্রসারিত দুই হাত কেবল একটি ভঙ্গিমা ছিল না; ওটা ছিল ভয়ের দেয়াল ভেঙে ফেলার এক চূড়ান্ত স্পর্ধা। আবু সাঈদের রক্ত মাটিতে পড়ার সাথে সাথে যেন পুরো বাংলাদেশের ঘুম ভেঙে গেল। ওই দিনই মূলত স্বৈরাচারের কফিনে প্রথম পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিল সাঈদ।
"পানি লাগবে কারো, পানি?" মুগ্ধর সেই অমর ডাক: জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে আমরা দেখেছি মির মাহফুজুর রহমান মুগ্ধকে। কী অপরাধ ছিল এই ছেলেটির? সে তো কাউকে ইট মারেনি, কারো ওপর হামলা করেনি। ১৮ জুলাই, উত্তরায় যখন চারদিকে টিয়ারশেল আর গুলির ধোঁয়া, তখন এই ছেলেটি নিজের জীবনের পরোয়া না করে ছুটে বেড়াচ্ছিল। তার কাঁধে ব্যাগ, হাতে পানির বোতল আর বিস্কুট। গ্যাসে আর গরমে হাঁসফাঁস করা আন্দোলনকারীদের সে পানি পান করাচ্ছিল। তার মুখে সেই চিরচেনা হাসি, আর কণ্ঠে সেই অমৃত বাণী "পানি লাগবে কারো, পানি?"
হঠাৎ একটি বুলেট এসে ভেদ করল তার কপাল। নিমিষেই লুটিয়ে পড়ল একটি তাজা প্রাণ। যে ছেলেটি একটু আগেও মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছিল, মুহূর্তের মধ্যে তার নিজের রক্তে রঞ্জিত হলো রাজপথ। মুগ্ধর সেই হাসিমাখা মুখ আর পানির বোতল হাতে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য কোনো পাষাণ হৃদয়ের মানুষও কি কান্না ছাড়া দেখতে পারবে? মুগ্ধ আজ নেই, কিন্তু তার ওই "পানি লাগবে, পানি?" ডাকটি অনন্তকাল ধরে বাংলার আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হবে।
ছাদের কার্নিশে, ঘরের বারান্দায় রক্তের দাগ: কী বীভৎস ছিল সেই দিনগুলো! শুধু যে রাজপথেই রক্ত ঝরেছে তা নয়, মানুষের নিজের ঘরের বারান্দাও নিরাপদ ছিল না। ১১ বছরের শিশু রিয়া গোপ, যে কি না নিজের বাসার ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল, তাকেও বুলেটের আঘাতে প্রাণ দিতে হলো। চার বছরের শিশু আহাদ, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।
আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করা হয়েছে নিরস্ত্র মানুষের ওপর। এই বাংলার আকাশ এমন নিষ্ঠুরতা ১৯৭১ সালের পর আর কখনও দেখেনি। কতশত তরুণ চোখের আলো হারিয়েছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা চোখে তারা যখন জিজ্ঞেস করেছে, "মা, আমি কি আর কখনও দেখতে পাব না?" তখন সেই মায়ের মনের ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে, তা কি আমরা কোনোদিন পরিমাপ করতে পারব?
ফারহান ফাইয়াজ, নাইম, তাহমিদ, ওয়াসিম এমন শত শত তরতাজা প্রাণ ঝরে গেল। ঢাকা মেডিকেল আর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গগুলোতে লাশের স্তূপ। মর্গের সামনে স্বজনদের আহাজারি। এক বাবা তার ছেলের লাশ কাঁধে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। যে বাবার কাঁধে ভর করে ছেলের পৃথিবী দেখার কথা ছিল, সেই বাবা যখন ছেলের কফিন কাঁধে নেন, তখন পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তুটিতে পরিণত হয় সেই কফিন।
অগ্নিগর্ভ আগস্ট এবং এক দফার ডাক: জুলাইয়ের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই শুরু হলো আগস্ট। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ততদিনে আর কোটা সংস্কারে আটকে নেই। এত রক্ত, এত লাশের পর মানুষের একটাই দাবি স্বৈরাচারের পতন। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে যখন লাখো জনতা সমবেত হলো, তখন সেখানে কোনো ভয় ছিল না। সেখানে ছিল এক অদম্য জেদ।
৪ আগস্ট দিনটি ছিল আরও এক বিভীষিকা। সেদিন সারা দেশে ঝরে গেল শতাধিক প্রাণ। কিন্তু মৃত্যুর এই মহামারিও মানুষকে আর ঘরে আটকে রাখতে পারল না। মানুষ বুঝতে পেরেছিল, এখন যদি তারা ঘরে ফিরে যায়, তবে এই রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের একজন একজন করে হত্যা করবে, গুম করবে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষের আর হারানোর কিছু থাকে না।
৫ আগস্ট: সেই মহেন্দ্রক্ষণ, সেই মুক্তির দিন: `লং মার্চ টু ঢাকা` এই এক ডাকে যেন পুরো বাংলাদেশ জেগে উঠল। ৫ আগস্ট সকাল থেকেই চারদিকে এক থমথমে অবস্থা। কারফিউ জারি করা হয়েছে, রাস্তায় সেনাবাহিনী। কিন্তু মানুষের স্রোত কি আর কারফিউ দিয়ে ঠেকানো যায়? দলে দলে মানুষ ঢাকার দিকে ছুটছে। কেউ নিজের হাতে রক্তের গ্রুপ লিখে নিয়েছে, কেউ মাথায় বেঁধেছে কাফনের কাপড়, কেউ পকেটে চিরকুট লিখে রেখেছে "আমি মারা গেলে আমাকে অমুক জায়গায় দাফন করবেন।"
কী এক অদ্ভুত সাহস! মৃত্যুর জন্য এমন প্রস্তুতি নিয়ে কোনো জাতি যখন রাস্তায় নামে, তখন পৃথিবীর কোনো স্বৈরাচার টিকতে পারে না।
দুপুর গড়াতেই খবরের সত্যতা মিলতে শুরু করল। গণভবন, যেখান থেকে গত ১৫ বছর ধরে অহংকার আর দাম্ভিকতার নির্দেশ আসত, সেই গণভবনের পতন হয়েছে। স্বৈরশাসক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
দুপুর আড়াইটায় যখন আনুষ্ঠানিকভাবে খবরটি প্রচারিত হলো, তখন মনে হলো পুরো বাংলাদেশ যেন একসাথে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। রাস্তায় রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল। অচেনা মানুষ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। এ কান্না কেবল আনন্দের ছিল না; এ কান্না ছিল জমে থাকা দীর্ঘদিনের কষ্ট, হারানো ভাইদের প্রতি শোক এবং এক অজানা মুক্তির আশ্বাসের।
শাহবাগ থেকে টিএসসি, মিরপুর থেকে মতিঝিল, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সবখানে যেন এক নতুন বাংলাদেশের জন্মোৎসব। ছাত্র, শিক্ষক, রিকশাচালক, গৃহিণী সবাই এক কাতারে। সেদিন সবার একটাই পরিচয় ছিল তারা সবাই মুক্ত, স্বাধীন বাংলার নাগরিক। সেদিন বাতাসটা কেমন যেন অন্যরকম লাগছিল। মনে হচ্ছিল, বহু বছর পর বাংলাদেশ যেন প্রাণ ভরে, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছে।
আনন্দের মাঝে এক বিষাদের সুর: কিন্তু ৫ আগস্টের এই বাঁধভাঙা উল্লাসের মধ্যেও আমাদের হৃদয়ের এক কোণে কি একটা চিনচিনে ব্যথা ছিল না? যখন আমরা সবাই রাস্তায় নেমে বিজয়োল্লাস করছিলাম, তখন সেই শহীদ ভাইদের বাড়িতে কেমন ছিল পরিবেশ?
যে মা তার নাড়িছেঁড়া ধনকে হারিয়েছেন, ৫ আগস্টের বিজয় কি তার বুক খালি হওয়ার কষ্ট ঘোচাতে পেরেছে? যে বাবা তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়েছেন, এই স্বাধীনতা কি তার অভাব মেটাতে পারবে? ডাইনিং টেবিলে যে চেয়ারটা আজীবনের জন্য ফাঁকা হয়ে গেল, সেই শূন্যতা কি কোনোদিন পূরণ হবে?
হয়তো হবে না। কিন্তু ওই শহীদ পরিবারের সদস্যরা যখন টিভির পর্দায় লাখো মানুষের মুক্তির আনন্দ দেখেছেন, তখন চোখের পানি মুছতে মুছতে হয়তো নিজেদের প্রবোধ দিয়েছেন এই বলে "আমার ছেলেটা দেশের জন্য, এই মানুষগুলোর হাসিমুখের জন্য প্রাণ দিয়েছে। ওর রক্ত বৃথা যায়নি।"
আমাদের দায়বদ্ধতা এবং নতুন এক শপথ: ৫ আগস্ট কেবল একটি বিজয়ের দিন নয়, এটি একটি পাহাড়সম দায়বদ্ধতার দিন। যে বৈষম্যহীন, সুন্দর, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে আমাদের ভাইয়েরা অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিল, সেই বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন আপনার, আমার, আমাদের সবার কাঁধে।
আমরা যদি আবারও বিভেদ, হানাহানি, স্বার্থপরতা আর দুর্নীতির পথে হাঁটি, তবে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ফারহান কিংবা ওই নাম না জানা শত শত শহীদের আত্মা আমাদের কখনও ক্ষমা করবে না। আমরা যদি আবারও কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হওয়ার সুযোগ করে দিই, তবে ওই পঙ্গু হয়ে যাওয়া ভাইটির অভিশাপ আমাদের ধ্বংস করে দেবে।
৫ আগস্ট আমাদের বুকের ভেতরে একটি বারুদের মতো জ্বলতে থাকুক। যখনই দেশ কোনো সংকটে পড়বে, যখনই কেউ আমাদের অধিকার কেড়ে নিতে চাইবে, যখনই অন্ধকারে হারিয়ে যেতে চাইবে এই দেশ তখনই ৫ আগস্ট আমাদের পথ দেখাবে।
যারা জীবন দিয়েছেন, তারা আমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাননি। তারা শুধু চেয়েছেন আমরা যেন স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারি, আমরা যেন কথা বলতে পারি, আমরা যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি।
রক্তে ভেজা, কান্নায় ভেজা এই নতুন স্বাধীনতা আমরা আর কখনোই, কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেব না। শহীদদের রক্তের কসম, মায়ের অশ্রুর কসম আমরা এক নতুন বাংলাদেশ গড়বই। ৫ আগস্ট অমর হোক। শহীদদের স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হোক।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী


আপনার মতামত লিখুন :