ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

প্রধান শিক্ষকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

প্রধান শিক্ষকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ

নেপালের আকস্মিক বন্যায় যখন চারপাশ লণ্ডভণ্ড, ঠিক তখনই এক প্রধান শিক্ষকের তাৎক্ষণিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ৯০০ শিক্ষার্থী। ১০ মিনিটের এদিক-সেদিক হলেই ঘটতে পারত বড় ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা। ঘটনাটি নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের।

গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ও ভূমিধসের জেরে সৃষ্ট বন্যা ত্রিশূলী নদী দিয়ে অবিশ্বাস্য গতিতে নিচে নেমে আসে। মুহূর্তে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজার।

নদীর কাছেই অবস্থিত ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনি চারটি সতর্কবার্তা পান। এর মধ্যে একটি ছিল, উজানে বেত্রাবতী জনপদে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে এবং সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই খবর পাওয়ামাত্রই তিনি কালক্ষেপণ না করে স্কুলে থাকা প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীকে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

রাজেন্দ্র দাওয়াদি বলেন, “আমি আর এক মুহূর্তও দেরি না করার সিদ্ধান্ত নিই। ভেবেছিলাম, বন্যা না এলেও বড়জোর এক দিনের ক্লাস নষ্ট হবে।” শিক্ষার্থীরা যখন উঁচু জায়গার দিকে ছুটছিল, তখনই তিনি দেখতে পান নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে থাকা একটি হোস্টেল ভবন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শিউরে ওঠার মতো ওই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত নিতে আর ১০ মিনিট দেরি হলে আজ আমি বা আমার শিক্ষার্থীরা কেউই বেঁচে থাকতাম না।”

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা জানায়, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্কুলের পেছনের সরু ও কাদাময় পথ ধরে দৌড়ে উঁচু জায়গায় ওঠে সে। তার ভাষ্য, “আমি ও আমার বন্ধুরা মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে বেঁচে গেছি। চোখের পলকেই সামনের পুরো বাজার পানিতে ভেসে যায়।” বন্যার খবর শোনার পর থেকে ইউনিশার মা সাবিনা শ্রেষ্ঠা চরম আতঙ্কে ছিলেন। তিন দিন পর মেয়ে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরলে স্বস্তি ফেরে পরিবারটিতে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আটকে পড়া প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পরে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে উদ্ধার করে বিদুরে নেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, স্কুলমাঠের ওপর দিয়ে এখন রীতিমতো নদী বইছে; তাই সেখানে আর ক্লাস করার কোনো উপায় নেই।

নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রলয়ংকরী বন্যায় রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার অন্তত ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্কুলের বেশির ভাগ শ্রেণিকক্ষ কাদা ও পলিমাটিতে ভরে গেছে। এর মধ্যে ত্রিভুবন মাল্টিপল ক্যাম্পাস এবং ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হোস্টেল বন্যায় সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!