ঢাকা রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষিকার মৃত্যু: ঘাতক পনিসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষিকার মৃত্যু: ঘাতক পনিসহ গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে রনজিলা পারভীন (৫৭) নামে এক প্রধান শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব-২-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রধান আসামি পনি ওরফে প্যারা পনিকে তার এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়। বিকেলে মোহাম্মদপুরে র‍্যাব-২ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার খেজুরবাগান সংলগ্ন সড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, শনিবার ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে রিকশায় করে ফার্মগেটের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাচ্ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। সকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে খেজুরবাগান এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী চলন্ত অবস্থায় ওই শিক্ষিকার হাতের ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়।

এতে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রনজিলা পারভীন গাবতলী উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্বামী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকায় থাকতেন। তাঁর স্বামী আব্দুল মতিন পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁদের একমাত্র মেয়ে রাইশা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়া রনজিলা পদোন্নতি পেয়ে বাগবাড়ী স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মায়ের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে মেয়ে রাইশার কান্না কোনোভাবেই থামছে না। রনজিলার বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম জানান, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে তাঁরা বগুড়ায় ফিরছেন।

শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হবে না বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হলেও পুলিশ জানিয়েছে, জঘন্য এই ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!