ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। জুলাইয়ের শেষ দিকের পর এটিই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্য হামলা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যদের হরমুজ প্রণালিতে রকেটের মাধ্যমে সাগরে মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা যাওয়ার পরই এই হামলা চালানো হয়।
রোববারের এই হামলায় নিজেদের কয়েকজন হতাহত হওয়ার কথা জানিয়ে এর কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় আইআরজিসি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে আইআরজিসি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি কিং হুসেইন ও আল-আজরাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে যে এই হামলায় শত্রুপক্ষের রাডার, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও যুদ্ধবিমানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির ওপরের দিকে অবস্থিত লারাক দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বান্দার আব্বাসের কাছেই অবস্থিত। বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি খবর ছড়িয়েছে, ইরান তেলবাহী জাহাজগুলোকে এই দ্বীপের পাশ দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য করে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং প্রণালি পার হওয়ার জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার করে টোল আদায় করছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি মার্কিন এই হামলাকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ভুলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই চরম মূল্য দিতে হবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যে মাইন পেতেছিল, তার সবই সরিয়ে ফেলা বা ধ্বংস করা হয়েছে। নতুন করে মাইন স্থাপনের চেষ্টা হলে তা ধ্বংস করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি ট্রাম্পের এই দাবিকে স্রেফ ‘প্রচারণামূলক প্রতারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা শুরুর পর থেকে চলমান এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে ছয় মাস অতিক্রম করেছে। এই সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলায় কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর মধ্যে গত ২৪ আগস্ট ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিলেও তেহরান একে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক ব্যর্থতার অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সূত্র:বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :