ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

ঐক্য সরকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তারেক রহমানের

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

ঐক্য সরকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তারেক রহমানের

আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষ প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী তারেক রহমান। গতশুক্রবার রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) এককভাবেই সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী।

৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান, যিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত এক গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক ও তার মায়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি দেশে ফেরেন। তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও দলটি বর্তমানে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত বলেছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে নির্বাচন-পরবর্তী ঐক্য সরকার গঠনে তারা আগ্রহী। বিশেষ করে ২০২৪ সালের দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের বৃহৎ পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তারা এই প্রস্তাব দেয়।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”

দলের কার্যালয়ে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি, ও তার মায়ের প্রতিকৃতির নিচে বসে আরও বলেন, “আমি জানি না তারা কয়টি আসন পাবে, কিন্তু যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে।”

তার সহযোগীরা জানিয়েছেন, বিএনপি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

তারেক রহমান নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ না করলেও বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন আমরা পাব।”

সব মতামত জরিপেই বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট, যেখানে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন দলও রয়েছে, বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৈশ্বিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতি: গত বছর ঢাকার একটি আদালত শেখ হাসিনাকে দমন-পীড়নের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড দিলে ভারত তাকে আশ্রয় দেয়। এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে এবং একই সঙ্গে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়।

ভারতের পরিবর্তে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন,
“বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমাদের এমন অংশীদার দরকার যারা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সক্ষম।”

তিনি বলেন, “আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। ব্যবসা আনতে হবে, যাতে মানুষ ভালো জীবন পায়।”

আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমাদের মানুষের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।”

শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে, জনগণ যদি স্বাগত জানায়, তাহলে যে কেউ রাজনীতি করার অধিকার রাখে।”

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলের বহু শীর্ষ নেতা ও শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা তার পতনের আগেই অথবা পরবর্তীতে দেশ ছাড়েন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবস্থান: বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী বসবাস করছে। তারা প্রতিবেশী মিয়ানমারে ধারাবাহিক দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসে।

অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানিয়েছিল, নানা সংকটের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছিল।

এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরাও চাই তারা নিজ দেশে ফিরে যাক, কিন্তু সেটি তখনই সম্ভব যখন সেখানে নিরাপদ পরিবেশ থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “যতদিন না সেখানে তাদের জন্য নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হয়, ততদিন তারা এখানে থাকতে সম্পূর্ণ স্বাগত।”

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!