ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

‘চাইলেই ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

‘চাইলেই ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন করে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন চাইলে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে এবং এই কাজে তেহরানের বাধা দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। তবে এই মুহূর্তে তা করার কোনো প্রয়োজন বা কারণ দেখছেন না তিনি।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা চাইলে এখনই সেটা (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) নিয়ে নিতে পারি। আমি মনে করি না, আমরা চাইলে তারা (ইরান) আমাদের থামাতে পারবে। কিন্তু এখনই এর কোনো দরকার বা কারণ নেই।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের ওই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এমনভাবে সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত রয়েছে যে তা কার্যত ‘সমাধিস্থ’ অবস্থায় আছে। এটি ব্যবহার করে হুট করে কোনো অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। এ ছাড়া এই ইউরেনিয়ামের ওপর মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীর কঠোর পর্যবেক্ষণ রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “ওটার ওপর আমাদের সার্বক্ষণিক কড়া নজর রয়েছে।”

চলমান ৬০ দিনের খসড়া সমঝোতা স্মারক এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি দুই দেশ শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক বৈঠক হতে পারে।

সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ট্রাম্প বলেন, “আমি নিজে থেকে যে খুব সাক্ষাৎ করতে উদগ্রীব, তা নয়। তবে যদি শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎ করি, তাহলে সেটাকে আমি সম্মানের বিষয় হিসেবেই দেখব।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমরা কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি, তাহলে তাঁর (মোজতবা খামেনি) সঙ্গে আমার বৈঠক হতে পারে। তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই এবং আমি তাঁর প্রতি পূর্ণ সম্মানজনক আচরণই করব।”

এদিনের ব্রিফিংয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র লেবানন সংকট নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “লেবানন দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ সংঘাত ও হামলার শিকার। দেশটিতে যদি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়, তবে তা সমগ্র অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।”

লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে পর্দার আড়ালের কূটনীতির উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে। লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে” বলেও দাবি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের বিদ্রোহ এবং নতুন বিল পাসের পরদিনই হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের এই নমনীয় অথচ হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!