ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

ঈদের ১৩ দিনে সড়কে ঝরল ২৮১ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

ঈদের ১৩ দিনে সড়কে ঝরল ২৮১ প্রাণ

সদ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ও পরে সারা দেশে মাত্র ১৩ দিনে (২১ মে থেকে ২ জুন) ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎসবের এই দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২২ জন মানুষ।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে ঈদযাত্রা শেষে সড়ক দুর্ঘটনার এই লোমহর্ষক চিত্র প্রকাশ করেছে বেসরকারি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’। দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের ঈদে মোট প্রাণহানির প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে। ১৩ দিনে সারা দেশে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২৪ জন আরোহী, যা মোট নিহতের ৪৪ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া সড়কে নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু এবং ৩৭ জন সাধারণ পথচারী রয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরাবরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৯৫টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে।

প্রতিবেদনে সড়কপথের পাশাপাশি নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ১৩টি নৌ-পথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। এসব নৌ-দুর্ঘটনায় কোরবানির জন্য হাটে আনা বা হাট থেকে ফেরত নিয়ে যাওয়া ২৪টি গরুও মারা গেছে। অন্যদিকে, ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় রেলক্রসিং ও কাটা পড়ে ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে প্রাণহানি কিছুটা কমলেও দেশের সার্বিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নতি হয়নি। সংস্থাটি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ৫টি বিষয় চিহ্নিত করেছে:
১. যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং।
২. ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মহাসড়কে নামানো।
৩. চালকদের অদক্ষতা এবং ক্লান্ত শরীর নিয়ে একটানা গাড়ি চালানো।
৪. মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।
৫. কিশোর-তরুণদের লাইসেন্সবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে মোটরসাইকেল চালানো।

সংস্থার ১০ দফা সুপারিশ: নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা, রেল ও নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। টেকসই ও নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রতিবেদনে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে:-

১. জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি)-কে শক্তিশালী ও স্বাধীন করা। 
২. বিআরটিএ , বিআরটিসি ও ডিটিসিএ-এর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। 
৩. হাইওয়েতে গতি নিয়ন্ত্রণে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। 
৪. সড়ক থেকে সমস্ত মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রত্যাহার।
৫. সরকারি উদ্যোগে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো।
৬. অরাজনৈতিক ও পেশাদার দক্ষ চালক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাড়ানো।
৭. নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোর আধুনিকায়ন।
৮. যানবাহন চালক ও পথচারীদের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
৯. পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধ ও প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন।
১০. সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ‘অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়’ গঠন করা।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!