ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি, গর্ভেই মরল ৭ মাসের সন্তান

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি, গর্ভেই মরল ৭ মাসের সন্তান

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে (ভ্রূণ) হত্যার এক নারকীয় ও বর্বরোচিত অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী শিখা খাতুন (১৮) বাদী হয়ে স্বামী বিপ্লবের (২৪) বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি ভ্রূণ হত্যার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী বিপ্লবকে গ্রেফতার করেছে।

উপজেলার কয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এই নির্মম ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লবের সাথে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব স্ত্রীর পরিবারের আর্থিক দীনতা জানা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও দামী মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিল। এসব দাবি পূরণ করতে না পারায় শিখা খাতুনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে ভুক্তভোগী শিখা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। গত ২৬ মে রাতে স্বামী বিপ্লব যৌতুকের দাবিতে প্রথম দফায় আমার ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং পেটে লাথি মারে। এরপর গত ৩১ মে রাত ১০টার দিকে সে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে আবারও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল ও টাকার জন্য চাপ দিলে আমি জানাই আমার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ, এত টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র দেওয়া আমার পরিবারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না।”

শিখা আরও জানান, “এই কথা শোনার সাথে সাথেই ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং বুট জুতো দিয়ে খুব জোরে আমার পেটে আবারও লাথি মারে। লাথির আঘাতে আমি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা আমাকে উদ্ধার করে জীবননগরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করেন।”

পরবর্তীতে ১ জুন বিকেলে জীবননগর মনোয়ারা সনো সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে চিকিৎসকেরা জানান, শিখার গর্ভের সন্তানের কোনো হার্টবিট (হৃদস্পন্দন) নেই। সন্তানকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় চিকিৎসক শিখাকে এক ঘণ্টা ধরে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে আবারও আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। অবশেষে গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিখা একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

যৌতুকের লোভের বলি হয়ে একটি অনাগত শিশুর এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত পাষণ্ড স্বামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ বলেন, “যৌতুকের কারণে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর নির্যাতন ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে শিখা খাতুন নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আমরা অভিযোগটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি এবং রাতেই আসামি বিপ্লবকে গ্রেফতার করেছি। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এই নিষ্ঠুর ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।”

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!