ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

‘মব জাস্টিস ও গণগ্রেপ্তার চলছে’: এইচআরডব্লিউ’র বার্ষিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

‘মব জাস্টিস ও গণগ্রেপ্তার চলছে’: এইচআরডব্লিউ’র বার্ষিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের দমন-পীড়ন ও গুমের পরিবেশের কিছুটা অবসান ঘটলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘মব জাস্টিস’, গণগ্রেপ্তার এবং জামিন না দেওয়ার চর্চা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও সংস্কারে হিমশিম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিশ্রুত মানবাধিকার সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছে। সংস্থাটির মতে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড প্রদানের মতো রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

গণপিটুনি ও গণগ্রেপ্তার নিয়ে পরিসংখ্যান এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে:

গণপিটুনি: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত গণপিটুনিতে অন্তত ১২৪ জন নিহত হয়েছেন।

গণগ্রেপ্তার: ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে অন্তত ৮ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জের সংঘর্ষের পর ৮ হাজার ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা এবং কয়েকশ আওয়ামী লীগ সমর্থককে আটকের খবর দেওয়া হয়েছে।

হেফাজতে মৃত্যু: ‘অধিকার’-এর তথ্যানুসারে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জন নির্যাতনে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিচার বিভাগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংস্থাটি বলছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের জামিন নিয়মিতভাবে নাকচ করা হচ্ছে। এই তালিকায় রাজনৈতিক কর্মীর পাশাপাশি অভিনেতা, আইনজীবী ও গায়কেরাও রয়েছেন। মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো এখনও বহাল থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। এছাড়া ২০২৫ সালে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক কর্মী ও সহিংস জনতা কর্তৃক অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংস্কার ও বিচারিক মান এইচআরডব্লিউ’র মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের জন্য একাধিক কমিশন গঠন করা হলেও রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবে অগ্রগতি সীমিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মান ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংগঠন বিলুপ্ত করার ক্ষমতা এবং মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রাখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, রোহিঙ্গা সংকট এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়গুলোও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!