বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ৩৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এ কারণে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার পাশাপাশি নতুন করে কমিটি গঠনের গুঞ্জনও চলছে। তবে বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হোক কিংবা নতুন কমিটি গঠন করা হোক রাজপথের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
এর আগে, ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক করা হয় খন্দকার এনামুল হক এনামকে এবং সদস্য সচিব করা হয় রবিউল ইসলাম নয়নকে। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান শরীফ উদ্দিন জুয়েল এবং সদস্য সচিব করা হয় সাজ্জাদুল মিরাজকে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিন্নাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিফুর রহমান বিপ্লব, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাওসার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ইমরান খান ইমন এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকিসহ আরও কয়েকজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি গঠনের আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ, বর্তমান সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, তাসলিম আহসান মাসুম, আবুল হাসান টিটু, মিরপুর জোনের টিম প্রধান শিমুল আহমেদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব আলী, আমিনুল হক হিমেল, সাফায়াতে রাব্বি আরাফাত এবং মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল।
তবে চূড়ান্ত আলোচনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওমর ফারুক মুন্না এবং মো. জিন্নাহর নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। ওমর ফারুক মুন্না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মিজানুর রহমান রাজ এবং শিমুল আহমেদের নাম আলোচনায় রয়েছে। নেতাকর্মীদের মতে, তারা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে মহানগর উত্তরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের সমন্বয়ে যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নতুন কমিটি। দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হওয়া ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, “শুধু ঢাকা মহানগর নয়, বরং সব জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়েই আমরা ভাবছি। আগে ফ্যাসিবাদের সময় এক ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল, এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। পরিবর্তিত বাস্তবতায় মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।”


আপনার মতামত লিখুন :