ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

ভুয়া দলিলে বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ, দুই সন্তান নিয়ে পথে অসহায় মা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

ভুয়া দলিলে বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ, দুই সন্তান নিয়ে পথে অসহায় মা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে এক অসহায় নারীর বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নার্সারি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক ও তার গুণ্ডাবাহিনীর বিরুদ্ধে। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় দুই সন্তান নিয়ে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী মা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী পরিবারটি এই নগ্ন ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের জরুরি ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের নিধিকুন্ড মৌজায় ৬৩ নম্বর আরএস খতিয়ানের একটি মূল্যবান বসতবাড়িসহ ৪ শতক ৮৬ পয়েন্ট জমি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক নিজেই তার স্ত্রী আকলিমা খাতুন আঁখিকে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলেন (দলিল নম্বর- ১৪৪৯)। এরপর থেকে স্ত্রী আঁখি তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন।

সম্প্রতি ধান সিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আঁখি সাময়িকভাবে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সুযোগে স্বামী ওমর ফারুক ও তার সহযোগীরা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি সশস্ত্র ভাড়াটে গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে ওই বাড়িতে অতর্কিত প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখল নেয়। এ সময় ঘরে থাকা যাবতীয় আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল ঘরের বাইরে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে জমির প্রকৃত মালিকপক্ষের ওপর চড়াও হয় দখলদারেরা, যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন আঁখি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমার স্বামী এই জমি আমার নামে লিখে দেয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এই বাড়িতেই থাকছি। আমি বাবার বাড়ি যাওয়ার পর ফারুক একদল ভাড়াটে গুন্ডা নিয়ে এসে আমার বাড়ি দখল করে এবং আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দেয়। শুধু তাই নয়, ঘরে থাকা আমার জমানো ৭৫ হাজার টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণের অলঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে ফারুক ও তার লোকজন।”

আঁখি আরও অভিযোগ করেন, “এখন বাড়ি ফিরে আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমার তরুণী মেয়ে বাইরে বের হলে ফারুকের গুন্ডারা তাকে কু-প্রস্তাব দিচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। আমি প্রশাসনের কাছে এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার এবং আমাদের ভিটেমাটি ফেরত চাই।”

তবে জমি ও বাড়ি দখলের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত নার্সারি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক। তিনি বলেন, “জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে এবং এর সপক্ষে আমার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমি কোনো জোরজুলুম করিনি, আইনগতভাবেই আমার অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি।”

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “শাহাপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং একটি বাড়ি দখলের বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগী নারীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নারীর বাড়ি দখল ও লুটপাটের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রতিবেশীরা অনতিবিলম্বে অসহায় মা ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

banner
Link copied!