দীর্ঘ দুই দশক পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পা রেখে আবেগঘন কণ্ঠে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলতেন, বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর আর কোনো ঠিকানা নেই। আজ আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমাকে এই এলাকার বিমানবন্দর নিয়ে বলেছেন। আমি কথা দিচ্ছি, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এই বিমানবন্দর দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা হবে।”
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে কৃষক ও নারীদের স্বাবলম্বী করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেন:
ফ্যামিলি কার্ড: প্রতিটি অভাবী নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষি কার্ড: কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যাবে।
ঋণ মওকুফ: কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নেবে বিএনপি সরকার।
শিল্পায়ন: ঠাকুরগাঁওকে একটি কৃষিনির্ভর শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে যেমন আমরা কে কোন ধর্মের তা দেখিনি, ২০২৪-এর আন্দোলনেও দেখিনি। হাজার বছর ধরে এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বাস করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না; মেধা ও যোগ্যতাই হবে মূল মাপকাঠি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রাজনীতিতে একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ নেই। জনগণ জানতে চায় আমরা তাদের জন্য কী করব। আমরা সেই লক্ষ্যেই কর্মমুখী শিক্ষা এবং দক্ষ শ্রমিক তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছি।”
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও শহর আজ আক্ষরিক অর্থেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভা শেষে তিনি নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিরামপুরে আরও দুটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :