ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

বগুড়া-২ আসনে হেভিওয়েটদের ত্রিমুখী লড়াই

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

বগুড়া-২ আসনে হেভিওয়েটদের ত্রিমুখী লড়াই

উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় নির্বাচনি উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বড় দলগুলোর প্রার্থীদের ভিড়ে আলাদাভাবে নজর কাড়ছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও হেভিওয়েট প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। ঢাকা-১৮ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়ে এখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে শিবগঞ্জের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে মান্না জানান, ঢাকা-১৮ একটি বিশাল ও ব্যয়বহুল নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় সেখান থেকে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এখন তাঁর পুরো মনোযোগ বগুড়া-২ আসনের দিকে। শুরুতে ঋণখেলাপির অভিযোগে সেখানে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হলেও, ইসিতে আপিল করে তিনি নিজের অধিকার ফিরে পেয়েছেন। তাঁর প্রতীক ‘কেটলি’ এখন শিবগঞ্জের গ্রামগঞ্জে মুখে মুখে।

শিবগঞ্জ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪১ হাজার ১৫৫ জন। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার মূল লড়াই হবে ত্রিমুখী: ১. মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য): প্রতীক ‘কেটলি’। তিনি শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত এবং জয়ের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী। ২. মীর শাহে আলম (বিএনপি): ধানের শীষের এই প্রার্থী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং শিবগঞ্জে তাঁর শক্ত জনভিত্তি রয়েছে। ৩. আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান (জামায়াত): সাবেক এই সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতার নিজস্ব ভোটব্যাংক জয়ের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ নির্বাচন বর্জন করার পর মাঠের সমীকরণ আরও জটিল ও কৌতূহল উদ্দীপক হয়ে উঠেছে।

মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেছেন যে, মাঠের প্রচারণায় ক্ষমতার একটা অদৃশ্য ‘ভার’ বা চাপ কাজ করছে। কিছু জায়গায় নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও কর্মীদের হুমকির মতো ঘটনা ঘটলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। তাঁর মতে, “জোর নয়, মানুষের সমর্থনই লড়াইয়ের আসল হাতিয়ার হওয়া উচিত। প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে মানুষ এবার বড় কোনো পরিবর্তন আনবে।”

শিবগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন: কে হবেন শিবগঞ্জের পরবর্তী অভিভাবক? বিএনপি, জামায়াত নাকি নাগরিক ঐক্যের মান্না? এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লবে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!