পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৭টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শুরুতে দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান।
নিহতরা হলেন, শাহজাদপুর ট্রাভেলসের চালক ও পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের কামাল হোসেন (৪২), মাছরাঙা এক্সপ্রেসের হেলপার ও শিবরামপুর মহল্লার মেহেদি হাসান জিহাদ (২৮), আটঘরিয়া উপজেলার নরজান গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৬) এবং পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আলেফ উদ্দিন (৩৫)। নিহতদের মধ্যে আলমগীর ও আলেফ উদ্দিন মাছরাঙা এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন।
মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজার রহমান জানান, পাবনা থেকে ঢাকাগামী ‘শাহজাদপুর ট্রাভেলস’ এবং বিপরীত দিক থেকে আসা ‘মাছরাঙা এক্সপ্রেস’ এর মধ্যে শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে এই সংঘর্ষ হয়। এতে বাস দুটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মাছরাঙা এক্সপ্রেসের হেলপার জিহাদ মারা যান। বাকি তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত ঘোষণা করা হয়।
দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জাহিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ৩২ জন ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আতাইকুলা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি উদ্ধার করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। বাস দুটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
ওসি মুস্তাফিজার রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না পেলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।


আপনার মতামত লিখুন :