ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Global News
নিট প্রশ্নফাঁস

ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা মোদির, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অচল দিল্লি

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা মোদির, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অচল দিল্লি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র-যুব বিক্ষোভ ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-এর নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলনের মূল দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তিনি এখনো পদত্যাগ না করায় রাজপথের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দিল্লিতে।

এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, দেশের তরুণদের কল্যাণ ও সুন্দর ভবিষ্যতের চেয়ে বড় আর কিছুই হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের মতো মহাপাপের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতেই এই ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় চিড়ে ভেজেনি আন্দোলনকারী ও বিরোধীদের। সিজেপি সরাসরি মোদির বক্তব্যের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেই অনড় থাকার কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মোদিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন এবং দোষীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

রাহুল গান্ধী সুস্পষ্টভাবে তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে, প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং নিরীহ ছাত্র-যুবদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। বিরোধী জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমে এর আগে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন।

যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ৩৪তম দিনে এসে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বুধবার রাতে যন্তর মন্তর ও ইন্ডিয়া গেট এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের পর পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বাইরে থেকে বহিরাগত লোক এনে পাথর ছুড়ে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে এবং পুলিশও তাদের সহযোগিতা করছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

একইসঙ্গে তিনি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতি অনশন প্রত্যাহারের কাতর আহ্বান জানান। দীর্ঘ তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই অনশনে সোনম ওয়াংচুক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তিনি এখনো অনশন ভাঙেননি।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে, টানা আন্দোলন ও সংঘর্ষের জেরে দিল্লির সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সুপ্রিম কোর্ট, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, মান্ডি হাউস ও খান মার্কেটের মতো ব্যস্ততম স্টেশনগুলোও রয়েছে। গতকাল বুধবারও এই স্টেশনগুলো দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রাখার পর আজ ফের একই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

হঠাৎ করে মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার অফিসযাত্রী ও শিক্ষার্থী। গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষকে বাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়ায় ট্যাক্সিক্যাব ব্যবহার করছেন। পুরো যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!