ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ এরই মধ্যে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত মে মাসের হিসাবের চেয়েও প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেশি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সামনে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়ে এই বিপুল সামরিক ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, আইনপ্রণেতারা জরুরি ভিত্তিতে নতুন সামরিক তহবিল অনুমোদন না করলে মার্কিন বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অভিযান চরম ঘাটতির মুখে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ৬৭ বিলিয়ন ডলারসহ পেন্টাগনের জন্য মোট ৮৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট চেয়েছেন তিনি। এছাড়া হোয়াইট হাউস আগামী অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের জন্য কংগ্রেসের কাছে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার চেয়েছে, যা অনুমোদন পেলে তা হবে আধুনিক যুগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধ এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থামলেও, গত সপ্তাহ থেকে তা আবারো তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১১ দিন ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ওপর পাল্টা আঘাত হানছে। এমন এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত সিনেট কমিটির এই শুনানি কয়েক দফায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীদের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়।
বিক্ষোভকারীরা `ইরান ও ফিলিস্তিনে আমাদের সন্তানদের ওপর বোমা হামলা বন্ধ করো` বলে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে `বিপজ্জনক` আখ্যা দিয়ে শক্তির মাধ্যমে শান্তি সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন। তিনি দ্রুত সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের অভাব পূরণ করতে এই তহবিলকে ‘প্রজন্মভিত্তিক বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সামরিক খাতে কম বরাদ্দের জন্য পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসনকে দায়ী করেন।
তবে বিপুল অঙ্কের এই সামরিক তহবিলের দাবি মার্কিন সিনেটে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক তহবিল অনুমোদন প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
নিউইয়র্কের ডেমোক্রেট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্রান্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ আমেরিকানরা যখন পরিবারের খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন প্রশাসন শুধু বোমা কেনার জন্য সীমাহীন অর্থ চাইছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের সাথে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্য বাগবিতণ্ডাও হয়। পিটার্স এই সংঘাতকে আরেকটি `কখনো শেষ না হওয়া যুদ্ধ` বলে আখ্যায়িত করলে হেগসেথ তাকে `ট্রাম্প বিদ্বেষী সিন্ড্রোমে` ভোগার পাল্টা অভিযোগ করেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর পুনর্নির্মাণের হিসাব ধরলে এই যুদ্ধের প্রকৃত খরচ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।
এই তহবিল পাস হওয়ার পথও খুব একটা সহজ নয়। রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীরাও বাজেটের এই ঘাটতি মেটাতে অন্য খাতের খরচ কমানোর দাবি তুলছেন। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিনিধি পরিষদ ছুটিতে যাচ্ছে এবং সেপ্টেম্বরের আগে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন বসার সম্ভাবনা নেই। ফলে পর্যাপ্ত সমর্থন পেলেও এই অর্থ পেন্টাগনের হাতে পৌঁছাতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।
অন্যদিকে, রণাঙ্গনে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবারই পেন্টাগন ইরাক ও জর্ডানে নতুন করে চার তরুণ মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বুধবার সকালে ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে নিহত এসব সেনাদের কফিন দেশে পৌঁছানোর সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :