ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

এক কিউআর-এই সব পেমেন্ট: আজ থেকে দেশজুড়ে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

এক কিউআর-এই সব পেমেন্ট: আজ থেকে দেশজুড়ে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’

দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং সর্বজনীন করতে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশজুড়ে চালু হয়েছে অভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা কিউআর’। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে এখন থেকে গ্রাহকদের বিভিন্ন ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে না; একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করেই সব ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে।

নতুন এই ব্যবস্থা চালুর খবরে দেশের সাধারণ গ্রাহক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা গেছে। তাদের প্রত্যাশা, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে কেনাকাটায় সময় ও খরচ দুই-ই উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতেই ‘বাংলা কিউআর’কে একক স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আজ থেকে দেশের শপিং মল, সুপারশপ থেকে শুরু করে ফুটপাতের ছোট দোকান কিংবা কাঁচাবাজার সবখানেই এই অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে বলেন, “ধরা যাক, আপনি বাজারে কেনাকাটা শেষে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে গেলেন। দেখলেন দোকানে কেবল ‘বিকাশ’-এর কিউআর কোড আছে, অথচ আপনার মোবাইলে আছে ‘রকেট’ বা ‘নগদ’-এর অ্যাকাউন্ট। আজ থেকে এই সমস্যা আর থাকবে না। বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকসহ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের আগের কিউআর কোডগুলোকে এখন বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাংলা কিউআর’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। ফলে, বাংলা কিউআর স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট থেকেই তাৎক্ষণিক পেমেন্ট করা সম্ভব।”

ডিজিটাল লেনদেনের প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার জন্য বিক্রেতাদের চড়া মূল্যের ‘পয়েন্ট অব সেল’ বা পস মেশিন ব্যবহার করতে হতো, যা ছোট দোকানদারদের পক্ষে কেনা সম্ভব ছিল না। কিন্তু বাংলা কিউআর ব্যবহারের জন্য দোকানে একটি সাধারণ কাগজের কিউআর স্টিকার থাকলেই চলবে। কোনো বাড়তি খরচ না থাকায় ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশাচালক বা যেকোনো সেবাদাতাও এখন সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

এছাড়া, এই পদ্ধতিতে কার্ড ক্লোনিং বা পিন নম্বর চুরির মতো কোনো জালিয়াতির ঝুঁকি নেই। গ্রাহক নিজের সুরক্ষিত মোবাইল অ্যাপ থেকেই সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে লেনদেন করবেন।

বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্সের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দেশজুড়ে মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে অভিন্ন বাংলা কিউআর চালু হওয়ায় ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে। গ্রাহকেরা ভাংতি টাকা বা ক্যাশ বহনের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন। পাশাপাশি মার্চেন্ট বা বিক্রেতাদের দৈনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ ও কার্যকর হবে।”

এনআরবিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, ব্যাংকগুলো এই পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, “বাংলা কিউআরের দুটি দিক রয়েছে ইস্যুয়িং (ক্রেতার ক্রয় সক্ষমতা) ও অ্যাকোয়ারিং (দোকানে কিউআর সরবরাহ করা)। এনআরবিসি ব্যাংক দুটি ক্ষেত্রেই শতভাগ প্রস্তুতি শেষ করেছে। ইতিমধ্যে আমাদের নেটওয়ার্কে বিপুলসংখ্যক মার্চেন্ট যুক্ত হয়েছেন এবং প্রতিদিন আমাদের বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনতে এবং একটি পুর্ণাঙ্গ ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ বা নগদবিহীন সমাজ গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: বাসস

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!