ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে স্কুলে হামলা: ওড়না পেঁচিয়ে শিক্ষিকাকে মারধর

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে স্কুলে হামলা: ওড়না পেঁচিয়ে শিক্ষিকাকে মারধর

পাবনার ঈশ্বরদীতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পড়া না পারার কারণে শাসন করাকে কেন্দ্র করে একটি বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষিকার ওপর বর্বর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক ধর্মীয় শিক্ষিকাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার ‘সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে’ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত শিক্ষিকারা হলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা নাসরিন (২৮), ধর্মীয় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) এবং শিক্ষিকা সেলিনা বেগম (৫০)। এদের মধ্যে শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল খাতুন পড়া না পারায় বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা তাকে সামান্য শাসন করেন। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে তার মা লিপি খাতুন তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।

অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীর স্বজন উজ্জ্বল হোসেন মাল ও তার ছেলে বাসির মালসহ ৪-৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে তাণ্ডব শুরু করেন। তারা বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সেখানে কর্তব্যরত তিন শিক্ষিকার ওপর আকস্মিক হামলা চালান।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত বর্বরভাবে নারী শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলেন। একপর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী এই হামলার প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী উজ্জ্বল হোসেন মাল ও তার ছেলে বাসির মাল ওই শিক্ষিকার গলার ওড়না টেনে ধরেন। এরপর ওড়না পেঁচিয়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে টানতে টানতে এবং মারধর করতে করতে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান। এই নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে একপর্যায়ে ওই শিক্ষিকা মাঠেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা এসে হামলাকারীদের তাড়া দিয়ে শিক্ষিকাদের উদ্ধার করেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার্থী জান্নাতুল খাতুনের পড়া না হওয়ায় তাকে আমি শিক্ষাসুলভ শাসন করেছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর জরুরি কাজে আমি বিদ্যালয়ের বাইরে গেলে জান্নাতুলের অভিভাবকরা দলবল নিয়ে এসে আমাদের তিনজন নারী শিক্ষিকাকে বেধড়ক মারধর করে। আমি বিষয়টি থানা পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি এবং এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাহউদ্দিন ইউসুফ নিবিড় জানান, “হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত এবং আমাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষিকাদের মারপিট ও লাঞ্ছিত করার খবর আমরা পেয়েছি। খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!