রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। টানটান উত্তেজনার এই মাহেন্দ্রক্ষণে বগুড়ায় শুরু হয়েছে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ। তবে এবারের প্রস্তুতিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাচনি উপকরণ বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল।
সকাল থেকেই মিলনায়তনে ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। সেখানে উপস্থিত হন ইইউ প্রতিনিধিদলের সদস্য পল খেলিমার ও ইভিলিন কিভিমা। তাঁরা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের প্রক্রিয়া খুঁটিয়ে দেখেন। এ সময় তাঁরা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শন শেষে ইইউ পর্যবেক্ষক পল খেলিমার গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছি। সারাদেশে আমাদের প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক কাজ করছেন, যার মধ্যে বগুড়া জেলাতেই রয়েছেন ৬ জন। ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে।” প্রতিনিধিদলের সদস্য ইভিলিন কিভিমা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দলই এবার সবচেয়ে বড়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার ১২টি উপজেলার ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রে ধাপে ধাপে সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। সদর উপজেলার ১৫০টি কেন্দ্রের সরঞ্জাম বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল ওয়াজেদ, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা প্রশাসক। মোস্তফা মঞ্জুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। জায়েদ ইবনে আবুল ফজল, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ জানান, দুর্গম ও চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মালামাল পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পাহারায় বিকেলের মধ্যে সব কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই আসনটি এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আন্তর্জাতিক নজরদারি ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি সব মিলিয়ে বগুড়ায় এখন উৎসব ও সতর্কতার এক মিশ্র আমেজ।


আপনার মতামত লিখুন :