ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই রণক্ষেত্রে পরিণত হলো খুলনা আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্র এলাকা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা এবং হট্টগোলের মাঝে প্রাণ হারিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল অভিযোগ করে বলেন, “আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি কচি ভাইকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যান।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া। তিনি বলেন, “আমি কাউকে ধাক্কা দেইনি, বরং জটলা সরিয়ে দিতে বলেছিলাম।”
অন্যদিকে, খুলনা-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল দাবি করেন, মহিবুজ্জামান কচি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। উত্তেজনার মাঝে তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়।
খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে অধ্যক্ষ ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, “খুলনার বিএনপিতে আজ বিষাদের ছায়া। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।”
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে উত্তেজনা দেখা গেলেও মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কোনো দৃশ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “তদন্ত চলছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”


আপনার মতামত লিখুন :