পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের বিজয়ের পরপরই এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। চাকলাহাট ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি বন্ধ কার্যালয় নিজ উদ্যোগে খুলে দিয়ে নিজ দলের ভেতরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আবু দাউদ প্রধান আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তালাবদ্ধ কার্যালয়টি খুলে দিচ্ছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ অফিস তালাবদ্ধ ছিল তা আমার জানা ছিল না। জানলে আগেই খুলে দিতাম। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় দলকে দায়িত্বশীল হতে হবে।” এছাড়া তিনি নিজের ইউনিয়নে ধানের শীষের পরাজয় নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং আওয়ামী লীগ কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁদের ওপর কোনো অন্যায় হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তা দেখবেন।
বিজয় উদযাপনের দিনে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয় খুলে দেওয়ার এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকরা। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা জানান, অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করেছিল এবং সিদ্ধান্ত ছিল এটি মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেওয়ার কোনো সাংগঠনিক নির্দেশনা ছিল না। এটি দাউদ প্রধানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে আবু দাউদ প্রধান তাঁর কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নয়; বরং এলাকায় নির্বাচনী উত্তেজনা প্রশমন ও রক্তপাতহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :