সাভারের আশুলিয়ায় ১০ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতন ও গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। তবে ঘটনার পর থেকে তাঁর স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার শিশুর নাম সামিয়া আক্তার। সে পাবনার আমিনপুর থানার সিন্দুরীয়া গ্রামের রজব আলীর মেয়ে।
পুলিশ জানায়, সামিয়া গত ১১ মাস ধরে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ডা. জাহিদুলের বাসায় কাজ করছিল। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্যাতনের সহ্য করতে না পেরে সে বাসা থেকে পালিয়ে রাস্তায় চলে আসে। পরে পথচারীরা শিশুটির শরীরে নির্যাতনের ক্ষত দেখে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সামিয়াকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসকের বাসায় অভিযান চালায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সামিয়া জানায়, প্রথম মাস ভালো কাটলেও গত ১০ মাস ধরে তার ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হতো। তুচ্ছ কারণে তাকে মারধর করা ছাড়াও গরম খুন্তি দিয়ে মুখ, হাত-পা ও পিঠে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জমাটবদ্ধ রক্তের দাগ ও পোড়া ক্ষত চিহ্ন দেখা গেছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, শিশু নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ডা. জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্ত্রীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :