ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News
ধুলোবালির কবলে সাভার-আশুলিয়া

চরম হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য, বাড়ছে ক্যানসার ঝুঁকি

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:১০ এএম

চরম হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য, বাড়ছে ক্যানসার ঝুঁকি

সাভার ও আশুলিয়া দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল এখন ধুলোবালির রাজ্যে পরিণত হয়েছে। একদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধীরগতিতে বিষিয়ে উঠেছে এ অঞ্চলের বাতাস। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা আর যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় সাধারণ মানুষ এখন মরণব্যাধি ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্বাস্থ্যবিদ ও পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।

সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতে যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, শুকনো মৌসুমে সেই সড়কগুলোই হয়ে ওঠে ধুলোর সমুদ্র। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার পিচ, ইট ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে ফ্লাইওভারের কাজ চলায় সড়কের বড় একটি অংশে পিচঢালাই নেই বললেই চলে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও আশুলিয়া ইপিজেড সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচলের সময় উড়ন্ত ধুলোয় অন্ধকার হয়ে পড়ে চারপাশ। রাস্তার দুপাশের বাড়িঘর, দোকানপাট ও গাছপালা ধুলোর আস্তরণে বর্ণহীন হয়ে পড়েছে।

ধুলোবালি ও কলকারখানার বর্জ্য বাতাসে মিশে ভয়াবহ বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, অ্যালার্জি ও চর্মরোগের প্রকোপ কয়েক গুণ বেড়েছে।

এ বিষয়ে নারী ও শিশু হাসপাতালের হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, "ধুলোবালির কারণে স্বল্পমেয়াদী হাঁচি-কাশি বা অ্যালার্জি ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী হৃদরোগ হতে পারে। এর থেকে বাঁচতে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত পানি ছিটানো ও সবুজ বনায়ন অত্যন্ত জরুরি।"

ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত। তিনি জানান, যত্রতত্র ফেলা থুথু বা কফ শুকিয়ে ধুলোর সাথে মিশে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, "এই বায়ুদূষণের ফলে দেশে বছরে ১ থেকে দেড় লাখ লোক ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু আইন দিয়ে এটি বন্ধ সম্ভব নয়, প্রয়োজন সামগ্রিক সচেতনতা।"

আশুলিয়ার সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুলের শিক্ষার্থী মাহফুজ জানায়, স্কুলে যাতায়াতের সময় ধুলোর কারণে তাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং প্রতিনিয়ত তারা অসুস্থ থাকছে।

ফারজানা নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মুখে মাস্ক এবং চোখে সানগ্লাস পরেও ধুলো থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে আছি।"

এলাকার পরিবেশ রক্ষায় নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি বলেন, "আমি নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সাভার-আশুলিয়াকে পরিষ্কার ও সবুজ করার। ইতোমধ্যে ৩ মাস ১০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছি। এই অঞ্চলকে দূষণমুক্ত করতে যা যা করণীয়, আমি তার সবটাই করব।"

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, সড়কের নির্মাণ নীতি যথাযথভাবে মেনে চলা এবং দিনের নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত পানি ছিটানো এখন সময়ের দাবি। এছাড়া নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগই পারে সাভার ও আশুলিয়ার বাতাসকে আবারও নির্মল করে তুলতে। সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাই হতে পারে এই সংকট থেকে মুক্তির মূল চাবিকাঠি।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!