টয়লেটের পাশেই রাখা সেমাইয়ের ঝুড়ি, নোংরা পায়ে মাড়ানো হচ্ছে ময়দার খামির আর বারবার ব্যবহৃত পোড়া তেলে ভাজা হচ্ছে লাচ্ছা। বগুড়ার কাহালু উপজেলার শেখাহার এলাকায় ‘ভাই ভাই লাচ্ছা সেমাই’ কারখানায় এমনই বীভৎস ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির প্রমাণ পেয়েছে যৌথ আভিযানিক দল। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ এই কর্মকাণ্ডের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র্যাব-১২-এর সমন্বিত এই অভিযানে কারখানায় ঢুকে শিউরে ওঠেন কর্মকর্তারা।
দেখা যায়: শ্রমিকরা খালি ও অপরিষ্কার পায়ে ময়দার ডো মাড়াচ্ছেন। টয়লেটের একদম পাশেই রাখা হয়েছে প্যাকেটজাত করার জন্য প্রস্তুত সেমাই। একই ভোজ্যতেল বারবার ব্যবহারের ফলে তা কালো ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। অত্যন্ত নিম্নমানের ডালডা এবং নোংরা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেল এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদি হাসান জানান, "এখানে খাদ্য উৎপাদনের ন্যূনতম কোনো মানদণ্ড মানা হচ্ছিল না। এটি সরাসরি ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘন।" ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে যে, অতিদ্রুত পরিবেশ উন্নত না করলে কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার একই তেল গরম করলে তাতে ট্রান্স ফ্যাট ও ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, হৃদরোগ ও লিভারের জটিলতা সৃষ্টি করে। এছাড়া নোংরা পরিবেশের খাবারে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো রোগ হতে পারে।
রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে জেলায় নিয়মিত নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইফতারের টেবিলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে তারা আপসহীন থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :