রমজানের সংযম ও সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে বগুড়া শহরে প্রতিদিন এক অনন্য মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতায় টানা তিন বছর ধরে চলমান এক ইফতার কর্মসূচি প্রতিদিন অন্তত তিন শতাধিক নিম্নআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফুটাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন ধারাবাহিক আয়োজন সাধারণ মানুষের কাছে বড় এক আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বগুড়া শহরের শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রতিদিন আসর নামাজের পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, পথচারী ও ছিন্নমূল মানুষেরা এখানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ হয়ে বসেন। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ইফতারের ব্যবস্থা থাকায় সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ নিতে পারছেন।
স্বেচ্ছাসেবীদের তথ্যমতে, প্রতিদিন ইফতারের ১৫-২০ মিনিট আগেই খাবার পরিবেশন সম্পন্ন করা হয়। মেনুতে থাকে খেজুর, হরেক রকমের মৌসুমি ফল, ছোলা-মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপি ও ঠান্ডা শরবত। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা হয় বলে ইফতারে অংশ নেওয়া মানুষেরা জানিয়েছেন।
এক ভ্যানচালক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “সারাদিনের পরিশ্রমের পর ভালো ইফতার কেনা আমাদের জন্য কঠিন। এখানে সবার সঙ্গে বসে তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারি এটাই বড় পাওয়া।”
আয়োজক সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই উদ্যোগ পুরো রমজান মাসজুড়ে অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে এই আয়োজন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবানদেরও এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :