মানুষ বলে, দ্বিতীয় বিয়ের পর পুরুষরা নাকি ধীরে ধীরে প্রথম মানুষটাকে ভুলে যায়। কিন্তু কুমিল্লার সদর উপজেলার বালুতুপা এলাকার রিয়াদ সেই কথাটাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিলেন।
২০১৫ সালে পরিচয়, ২০১৭ সালে বিয়ে। সংসার জমে উঠছিল সুন্দরভাবেই। প্রথম বছর একটি মেয়ে সন্তান আসে পৃথিবীতে, কিন্তু জন্মের দিনই চলে যায়। বুকভাঙা কষ্ট বুকে চেপে দুজন মিলে আবার স্বপ্ন বুনতে থাকেন। পাঁচ বছর পর আবার সুখবর একটি সন্তান আসবে। কিন্তু ঠিক তখনই নিষ্ঠুর নিয়তি আঘাত হানে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা গেল ক্যান্সার। সেই খবর স্ত্রীকে জানানো হয়নি। রিয়াদ একা বুকে পাথর চাপা দিয়ে হাসিমুখে স্ত্রীর পাশে থেকেছেন। একদিন সেই প্রিয় মানুষটি বাড়িতেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তারপর কেটে গেছে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। একা রিয়াদ, একটি ছোট্ট সন্তান আর অগণিত স্মৃতি নিয়ে। রিয়াদ দ্বিতীয় বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু সন্তানের কথা ভেবে পরিবারের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত রাজি হন।
গত শুক্রবার বর সাজে দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন রিয়াদ। কিন্তু পথের মাঝে হঠাৎ গাড়ি থামলো। কবরস্থানের সামনে এসে তিনি গাড়ি থামান এবং একমাত্র মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম স্ত্রীর কবর জিয়ারত করতে যান।
বর সাজা মানুষটি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে কাঁদছেন। ছোট মেয়েটিও পাশে। মা নেই, কিন্তু মায়ের কবরটা আছে। রিয়াদ জানান, "তার স্মৃতি আমার অনেক মনে পড়ে। আমি তাকে ভুলতে পারবো না। আমি দোয়া করি মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত দান করেন।"
সেই আবেগের মুহূর্তটি রিয়াদের বোন ভিডিও করেন, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ভিডিও দেখে কোটি মানুষ কাঁদলেন। কারণ এই কান্না শুধু একজন মানুষের না এই কান্না সত্যিকারের ভালোবাসার ভাষা।
বিয়ের শেরওয়ানি গায়ে, চোখে জল নিয়ে একজন মানুষ প্রমাণ করে দিলেন সত্যিকারের ভালোবাসা কবরেও শেষ হয় না।


আপনার মতামত লিখুন :