ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

আমেরিকা চুক্তি: তেল আমদানিতে নতুন বাধা? দ্রুত পর্যালোচনার দাবি বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:২০ পিএম

আমেরিকা চুক্তি: তেল আমদানিতে নতুন বাধা? দ্রুত পর্যালোচনার দাবি বিশেষজ্ঞদের

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি এবং সরকারের পক্ষ থেকে তেল সাশ্রয়ের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। এমন অবস্থায় অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটের মূল কারণ কেবল যুদ্ধ নয়, বরং আমেরিকার সঙ্গে থাকা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কঠোর শর্তাবলি। এই চুক্তিটি সময়োপযোগী করা না হলে ভারত, চীন বা রাশিয়ার মতো বিকল্প উৎস থেকে তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ সাহাদাত সিদ্দিকী মনে করেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান চুক্তিটি জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তিনি বলেন, “সরকারকে এখন রাজনৈতিকভাবে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। সোর্সিং ডাইভার্সিফাই (উৎস বহুমুখীকরণ) করতে না পারলে আমরা কেবল একটি নির্দিষ্ট ব্লকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ব, যা যুদ্ধের সময় বিপজ্জনক।”

বিশ্বের ২৭ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে এই রুটটি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বাংলাদেশ বিপাকে পড়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলীর মতে, কেবল হরমুজ প্রণালির অপেক্ষায় থাকলে সংকট আরও বাড়বে। তিনি বলেন, “আমাদের উচিত রুশ চ্যানেল বা রাশিয়ার বিকল্প রুটগুলো ব্যবহার করা। হরমুজ ছাড়াও অন্যান্য চ্যানেল দিয়ে তেল আনা সম্ভব, আমাদের সেই পথগুলো দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।”

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা ভারত ও রাশিয়ার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার সাথে করা চুক্তিতে যদি ‘তৃতীয় কোনো দেশ’ থেকে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ থাকে, তবে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। না হলে সংকটকালীন সময়ে ভারত বা রাশিয়া থেকেও তেল পাওয়া আইনিভাবে জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। ট্যাংক লরিতে ডিজিটাল ডিভাইস স্থাপন এবং ভোক্তা পর্যায়ে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর মাধ্যমে তেল চুরি ও মজুত ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল নজরদারি যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আমদানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!