যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে দুই দেশ থেকে দুই ধরণের বার্তা আসছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত কোনো শান্তি চুক্তি থেকে উভয় দেশ এখনও অনেক ‘দূরে’ অবস্থান করছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার প্রশংসা করলেও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তিনি কোনো ‘ব্ল্যাকমেইল’ সহ্য করবেন না।
আলোচনা চলাকালীনই সামরিক চাপ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘রুশমোর’ আরব সাগরে সক্রিয়ভাবে নৌ-অবরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেন্টকম সামাজিক মাধ্যমে এই অভিযানের প্রস্তুতির বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে, যা তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন নৌ-অবরোধের জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সম্পূর্ণ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের পথটি এখন সরাসরি আইআরজিসি’র নিয়ন্ত্রণে।
এই সংকটের মধ্যে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে রাশিয়া কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে, কিন্তু তেহরান এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইসরায়েলের ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেছেন, “ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি চমৎকার এবং বিশ্বস্ত মিত্র। তারা জানে কীভাবে লড়াই করতে হয় এবং জিততে হয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির প্রতি তাঁর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস ট্রাম্পের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। মিশিগানে এক অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মূলত ট্রাম্পকে এই ইরান যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। হ্যারিসের দাবি, আমেরিকান জনগণ এই সংঘাত চায় না এবং ট্রাম্প নিজের বিতর্কিত ইস্যুগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :