মহেশপুর উপজেলার সাড়াতলা গ্রামে কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ছমির উদ্দিন। নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ৭৭ শতক জমিতে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল আঙুর বাগান। বাগানের বয়স মাত্র ১১ মাস, আর এখনই থোকায় থোকায় ঝুলছে রঙিন স্বপ্ন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মে মাসেই শুরু হবে প্রথম দফার ফল সংগ্রহ (হারভেস্ট)। তবে এত বড় উদ্ভাবনী উদ্যোগের পরও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা বা পরামর্শ না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই সফল উদ্যোক্তা।
ছমির উদ্দিন জানান, প্রায় ৫০০টি আঙুর গাছ নিয়ে তিনি এই বাগানটি সাজিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমিতে বাগান তৈরিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। আধুনিক পদ্ধতিতে মাচা তৈরি করে গাছগুলোর পরিচর্যা করছেন তিনি। উদ্যোক্তার প্রত্যাশা, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত আঙুর পাওয়া সম্ভব। সেই হিসেবে প্রথম বছরেই বিনিয়োগের বড় একটি অংশ তুলে আনার পাশাপাশি ভালো মুনাফার আশা করছেন তিনি।
নিজের সফলতায় খুশি হলেও সরকারি দপ্তরের উদাসীনতায় হতাশ ছমির উদ্দিন। তাঁর অভিযোগ, বাগানটি পরিদর্শন বা কোনো ধরণের কারিগরি সহযোগিতা দিতে মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কেউ এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেননি।
তিনি বলেন, “সবকিছু আমি নিজের উদ্যোগে করেছি। কৃষি অফিসের কেউ একবারের জন্যও আমার বাগান দেখতে আসেননি বা কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এই বাগান আরও উন্নত করা যেত এবং এলাকার অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হতো।”
তরুণদের উদ্দেশ্যে ছমির উদ্দিনের বার্তা স্পষ্ট বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি বা দেশে চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিতে মনোনিবেশ করা উচিত। তাঁর মতে, স্বল্প সময়ে লাভবান হওয়ার জন্য আঙুর বা উচ্চমূল্যের ফল চাষ এক বিশাল সুযোগ। তিনি মনে করেন, শিক্ষিত তরুণরা কৃষিতে এলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
উদ্যোক্তার এই অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :