মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পাম্পগুলোতে। একদিকে তেলের সরবরাহ ঘাটতি, অন্যদিকে অসাধু চক্রের অবৈধ মজুত এই দ্বিমুখী সংকট মোকাবিলায় এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। পেট্রোল পাম্প এবং ট্যাংক লরিগুলোকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি নিত্যদিনের চিত্র। এই সুযোগে একদল অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করছে। সরকারি অভিযানে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল উদ্ধার হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল সমস্যাটি গোড়ায়। ডিপো থেকে তেল নিয়ে বের হওয়া ট্যাংক লরিগুলো মাঝপথে তেল চুরি করছে কি না, কিংবা পাম্প মালিকরা প্রাপ্ত তেলের পুরোটা গ্রাহককে দিচ্ছেন কি না তা তদারকির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এতদিন ছিল না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অপারেশন অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে ট্যাংক লরিতে বিশেষ ট্র্যাকিং ডিভাইস স্থাপন করা হবে। এর ফলে রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে যে, লরিটি কোথায় আছে এবং কতটা তেল আনলোড করছে। এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে ইতিমধ্যে ‘ফুয়েল পাস’ বা কোডভিত্তিক সিস্টেম চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই সংকট কাটাতে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টানছেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “শ্রীলঙ্কা কোডভিত্তিক সিস্টেম এবং ডিজিটাল নজরদারি চালু করে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত প্রতিটি লিটার তেলের মুভমেন্ট ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করা জরুরি। যথাযথ নজরদারি না থাকলে সাশ্রয়ের সব উদ্যোগই ব্যর্থ হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :