ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে

সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের মহোৎসব ‘তদন্তের আশ্বাস’ দিলেও থামেনি নিম্নমানের কাজ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের মহোৎসব ‘তদন্তের আশ্বাস’ দিলেও থামেনি নিম্নমানের কাজ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ২৫ কোটি টাকার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এখন চরমে। গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পরও কাজ বন্ধ না হওয়ায় এবং কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বালুর বদলে মাটি আর পিচের বদলে পোড়া মবিল ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষের ‘তদন্তের আশ্বাস’ কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের উথলী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণ শেষে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে দায়সারাভাবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে পিচের বদলে অতিরিক্ত মবিল ও নিম্নমানের আলকাতরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কার্পেটিংয়ের উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি নিচু হওয়ায় আসন্ন বর্ষায় পানি জমে দ্রুত সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিয়ালমারি পশুহাট সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে অনিয়মের আরও ভয়ংকর নমুনা। সেখানে পুরাতন কালভার্টের ভাঙা ইটের খোয়া এবং মাটি মিশ্রিত বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই পচা ইট ও মাটি মিশ্রিত বালু ভালো উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যশোরের ঠিকাদার মইনুদ্দিন বাঁশির সাইড ইঞ্জিনিয়ার আলামিন বরাবরের মতোই দাবি করছেন, “সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা সামনে থেকেই বালি ও খোয়া মিশ্রণ করাচ্ছেন, আমরা কোনো অনিয়ম করছি না।”

চুয়াডাঙ্গা সওজ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান আবারও একই সাফাই গেয়েছেন। তাঁর মতে, কুষ্টিয়া থেকে আনা এই ‘মাটি সদৃশ’ বস্তুগুলো আসলে বালু এবং এর ল্যাব টেস্টের প্রমাণপত্র তাঁদের কাছে আছে।

এর আগে নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেছিলেন, “পরীক্ষা ছাড়া কোনো কাজ চলবে না, প্রয়োজনে মালামাল উঠিয়ে ফেলা হবে।” কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁর এই বক্তব্যের পর একদিনও কাজ বন্ধ হয়নি, বরং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই দ্রুত কাজ শেষ করার তোড়জোড় চলছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার শাহীনসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ‘আর্থিক যোগসাজশ’ রয়েছে। ফলে কর্মকর্তারা জনসমক্ষে অনিয়মের প্রতিবাদ না করে বরং ল্যাব টেস্টের দোহাই দিয়ে নিম্নমানের কাজকে বৈধতা দিচ্ছেন।

জীবননগরের সচেতন মহল দ্রুত এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। জনগণের ট্যাক্সের ২৫ কোটি টাকা নয়ছয় করে তৈরি এই রাস্তা টেকসই না হলে, শেষ পর্যন্ত ভোগান্তি পোহাতে হবে এই জনপদের সাধারণ মানুষকেই।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!