মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন খাদের কিনারায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) ওয়াশিংটন সময় সন্ধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে নতুন করে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আগামীকাল থেকেই ওই অঞ্চলে পুনরায় ভয়াবহ সংঘাত শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে গত রোববার, যখন মার্কিন নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমভি তুসকা’ জব্দ করে। ট্রাম্পের দাবি, জাহাজটি মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। তবে ইরান এই ঘটনাকে ‘সামুদ্রিক জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে ‘নিষ্পত্তিমূলক প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
চরম অচলাবস্থার মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনার একটি শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মঙ্গলবার সকালে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এই দলে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। বুধবার মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চূড়ান্ত সংলাপে বসতে পারেন। তবে তেহরান এখনও এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ইরান গত দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে “নতুন তাস বা শক্তি” প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, “হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা মেনে নেবে না ইরান।” ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সাফ জানিয়েছে, মার্কিন অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলতে দেওয়া হবে না।
ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা থাকলেও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি সাময়িক স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। গত ১৬ এপ্রিল শুরু হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির আওতায় আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের সাথে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে এই আলোচনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :