ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে শিশু-নারীসহ নিহত ৯

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ১১:২১ এএম

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে শিশু-নারীসহ নিহত ৯

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতের বিভিন্ন সময়ে জেলার উখিয়ার একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাটিচাপায় আটজন এবং কক্সবাজার শহরে এক স্থানীয় বাসিন্দার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন।

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে বসতঘরের ওপর। এতে মাটিচাপায় আলী আকবর (৫০) নামে এক গৃহকর্তা নিহত এবং তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাশেম জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড় ধসে পড়ার পর স্থানীয়রা দ্রুত মাটি সরিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে মধ্যরাতেই তিনটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে, যাতে নারী ও শিশুসহ আটজনের প্রাণহানি হয়:

১১ নম্বর ক্যাম্প: রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাহাড়ধসে চারজন নিহত ও একজন আহত হন। নিহতরা হলেন, আবদুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩) এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই শিশুসন্তান মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।

১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্প: এর আগে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের এই ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের শিশুপুত্র মোহাম্মদ আনাস।

৭ নম্বর কুতুপালং ক্যাম্প: রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের এই ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে আসা মাটিচাপায় একরাম (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রাতেই রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, কাছাকাছি সময়ে ঘটা এসব দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের শঙ্কা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যারা বসবাস করছেন, তাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। প্রাণহানি এড়াতে সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রাকৃতিক এই বৈরী অবস্থা আরও অন্তত দুই দিন স্থায়ী হতে পারে এবং এ সময় ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!