ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Global News

টেকনাফের সেই একরাম হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

টেকনাফের সেই একরাম হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হকের আলোচিত ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে। ওই সময় দেশজুড়ে চলা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে র‍্যাবের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন কাউন্সিলর একরামুল হক। প্রথমে এটিকে মাদক উদ্ধার অভিযানের বন্দুকযুদ্ধ বলে দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রীর মুঠোফোনের একটি ভয়াবহ কলরেকর্ড ফাঁস হলে পুরো দেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

সেই অডিও রেকর্ডে একরামের মেয়ের ‘আব্বু, তুমি কানতেছ যে’ আকুল আর্তনাদ এবং এরপরই মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। সরাসরি ফোনের লাইনে থেকে একরাম হত্যার এই নির্মম সাক্ষী হয়েছিল তার অসহায় পরিবার। কিন্তু সেই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের সরাসরি হুমকির মুখে পরিবারটি কোনো মামলা বা বিচার চাওয়ার সাহস পর্যন্ত পায়নি।

দীর্ঘ বছর পর, চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একরাম হত্যার বিষয়টি আবারও সামনে আসে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বুকভরা আশা নিয়ে নতুন করে বিচারের জোর দাবি উঠলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এর তদন্ত শুরু করে।

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রসিকিউশন এই প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে। সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে একরামুল হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট তথ্য উঠে এসেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন দল এখন এই তদন্ত প্রতিবেদনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ দাখিল করবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নেওয়া এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। চোখের সামনে বিনা বিচারে স্বজন হারানোর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই আইনি পদক্ষেপটিকে ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!