কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে আকস্মিক হামলার ঘটনায় এক নাবিক নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই প্রাণঘাতী হামলার জন্য সরাসরি ইউক্রেনকে দায়ী করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানাতে এরই মধ্যে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর তথ্যমতে, ইরান দাবি করছে যে ইউক্রেন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে, যা কিয়েভের `অযৌক্তিক ও বৈরী` নীতিরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে দেশটি।
হামলার এই ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা সতর্ক করে বলেছে, এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
উদ্ভূত এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে টেলিফোনে জরুরি আলাপ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজের ওপর এই সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এই হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবিও তুলেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার কারণে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হতে যাচ্ছে। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, কাস্পিয়ান সাগরের এই ঘটনায় ইরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একে তো দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের কারণে তেহরান আগে থেকেই চাপে রয়েছে, তার ওপর উত্তর উপকূলে এমন হামলা তাদের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য নতুন এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তবে হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবরের মতোই দাবি করেছে যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তেহরান কখনোই সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বা পক্ষ নেয়নি।
অন্যদিকে, এই উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন যে, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় তারা `অত্যন্ত শক্তিশালী ফলাফল` অর্জন করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, সামরিক মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ইরানের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
তবে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার যে অভিযোগ ইরান তুলেছে, সেটিকে তিনি নিজের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে স্বীকার করেননি। উল্টো জেলেনস্কি নতুন এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট চিত্র রাশিয়ার মাধ্যমে ইরানের হাতে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে কাস্পিয়ান সাগরের এই হামলা কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে।


আপনার মতামত লিখুন :