মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আকাশচুম্বী উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৪ মার্চ) লেনদেন শেষে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৩.১৪ ডলারে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারিতেও এই তেলের দাম ছিল মাত্র ৭২.৪৮ ডলার। অর্থাৎ পনেরো দিনেরও কম সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে গত সাত দিনেই দাম বেড়েছে ১১ শতাংশ।
অন্যদিকে, মার্কিন তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই সংঘাত শুরুর পর থেকে ৪৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৭১ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালিতে’ জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে কানাডা বাজার স্থিতিশীল করতে এগিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য হিসেবে কানাডা তাদের কৌশলগত মজুত থেকে ২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আইইএ-র ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানাডার ফেডারেল ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কেবল তেলই নয়, আগামী মাসগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির পরিমাণও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট কিছুটা লাঘব হয়।
সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে শঙ্কিত আমদানিকারক দেশগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তেলের এই চড়া দাম পরিবহন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :