ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১০ মাস রণক্ষেত্রে অবস্থানের পর অবশেষে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। শুক্রবার (১ মে) এক মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে রণতরীটি ইউএস ইউরোপীয় কমান্ড এরিয়াতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
জেরাল্ড ফোর্ড চলে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য কমছে না। ওই অঞ্চলে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরও দুটি শক্তিশালী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ।
গত ১০ মাসের এই মিশনে জেরাল্ড ফোর্ড নানা নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছে: গত ১২ মার্চ রণতরীটিতে একটি হামলার ঘটনা ঘটে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জাহাজের লন্ড্রি রুমে আগুন লেগেছিল এবং এতে দুজন নাবিক আহত হন। পরবর্তীতে সংস্কারের জন্য এটিকে গ্রিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের ফলে জাহাজটির টয়লেটে বড় ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে সেনা ও নাবিকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল, যা বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যে আসার আগে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ছিল, যেখানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পূর্ব পর্যন্ত অবস্থান করেছিল রণতরীটি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। একদিকে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আটকে রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
এদিকে, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া যুদ্ধ চালানোর ৬০ দিনের সময়সীমা ১ মে শেষ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠালেও, এর পরপরই তিনি ঘোষণা করেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘সমাপ্ত’ হয়েছে এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমতির প্রয়োজন নেই।


আপনার মতামত লিখুন :