ঢাকা শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তি থাকলেও রপ্তানিতে ধাক্কা, চোখ রাঙাচ্ছে জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তি থাকলেও রপ্তানিতে ধাক্কা, চোখ রাঙাচ্ছে জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করছে। একদিকে রপ্তানি আয় কমছে, অন্যদিকে সরকারি ঋণের বোঝা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে অত্যন্ত সতর্ক নীতি অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

গতকাল জিইডির প্রকাশিত ২০২৬ সালের এপ্রিলের অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি: মূলত চালের দাম কমার ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বোরো মৌসুমের নতুন ধান, সরকারি আমদানি এবং খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) এই দাম কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

চালের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস ও সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৯ শতাংশের উচ্চতায় অবস্থান করছে।

সাধারণ মানুষের বাস্তব আয় এখনো চাপের মুখে। মার্চে মজুরি বৃদ্ধির হার বেড়ে ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ হলেও তা বর্তমান মূল্যস্ফীতির (৮.৭১%) তুলনায় কম। অর্থাৎ, মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে তার চেয়ে দ্রুতগতিতে।

রপ্তানি বিপর্যয়: ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বিশেষ করে মার্চ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

আশার আলো রেমিট্যান্স: প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে, যা অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিচ্ছে।

রাজস্ব ঘাটতি: মার্চে এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকা।

ব্যাংক ঋণ: রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকায় সরকারের ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৯ দশমিক ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে।

এডিপি বাস্তবায়ন: অর্থায়ন সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতিও মার্চে হ্রাস পেয়েছে।

জিইডি সতর্ক করেছে যে, টাকার অবমূল্যায়ন অব্যাহত থাকায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে পুনরায় উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!