ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

যুবদলের নেতৃত্ব ঘিরে বহুমুখী সংকট: পূর্ণাঙ্গ কমিটি না কি আমূল পরিবর্তন?

মো. কামাল হোসেন

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

যুবদলের নেতৃত্ব ঘিরে বহুমুখী সংকট: পূর্ণাঙ্গ কমিটি না কি আমূল পরিবর্তন?

বিএনপির আন্দোলনের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই গঠিত মাত্র ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর অতিবাহিত হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এই দীর্ঘসূত্রতা এখন সংগঠনটির ভেতরে স্পষ্ট বিভক্তি ও নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বর্তমানে সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যে ৭ সদস্যের কমিটি রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাধারণ সম্পাদক নয়ন জানিয়েছেন যে, তাঁরা যোগ্যদের তালিকা তৈরি করে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা দিয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল আশাবাদী যে, খুব দ্রুতই তারেক রহমানের নির্দেশনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে দেড় বছর পেরিয়ে যাওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

যুবদলের রাজনীতিতে বর্তমানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুঞ্জন ডালপালা মেলছে, যা সংগঠনের ভবিষ্যৎ গতিপথ বদলে দিতে পারে:

মুন্নার সম্ভাব্য বিদায়: আলোচনা রয়েছে যে, সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে ঢাকা মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে আসা হতে পারে।

নয়নের ব্যস্ততা: সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নিজ এলাকা ও সংসদীয় কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা তাকে যুবদলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রীতি ভঙ্গের সম্ভাবনা: যুবদলের দীর্ঘদিনের প্রথা হলো বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পরের কমিটির সভাপতি হন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রীতি এবার ভঙ্গ হতে পারে এবং সম্পূর্ণ নতুন মুখ নেতৃত্বে আসতে পারে।

সংগঠনটি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জুনিয়র নেতারা চাচ্ছেন বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ হোক, যাতে সাংগঠনিক কাঠামো দ্রুত কার্যকর হয়। অন্যদিকে, সিনিয়র নেতৃত্বের দাবিদার একটি অংশ বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কমিটি ঘোষণার দাবিতে নয়াপল্টনে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে যে, যেকোনো সিদ্ধান্তেই একটি বড় অংশ কমিটি থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে।

আলোচনায় যারা রয়েছেন: যুবদলের আগামীর সম্ভাব্য কাণ্ডারি হিসেবে রাজপথের একগুচ্ছ সাবেক ছাত্রনেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে- শীর্ষ পদের দৌড়ে, হাসান মামুন, জাকির হোসেন সিদ্দিকী এবং বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে: বিল্লাল হোসেন তারেক, কামরুজ্জামান জুয়েল, সাঈদ ইকবাল টিটো, গোলাম মাওলা শাহীন, মোস্তফা জগলুল পাশা (পাভেল), আকরামুল হাসান মিন্টু, মামুনুর রশীদ মামুন, ফজলুর রহমান খোকন এবং কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

চমক হিসেবে আলোচিত: মহানগরের খন্দকার এনামুল হক এনাম, রবিউল ইসলাম নয়ন, শরীফ উদ্দিন জুয়েল এবং সাজ্জাদুল মিরাজ।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুধু যুবদল নয়, বরং দলের প্রায় সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের হাওয়ায় যুবদলের নেতৃত্বের লড়াই এখন নয়াপল্টনের সরগরম আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!