ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা রোজা রাখলে মা ও গর্ভের শিশু-উভয়েরই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই ধরনের রোগীদের রোজা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। তারা বলেছেন, ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্যঝুঁকিকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মিলন অডিটোরিয়ামে এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ আয়োজিত ‘রমজান আপডেট’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গর্ভবতী ও ডায়াবেটিস রোগীদের ঝুঁকি সেমিনারে ঢামেকের উপাধ্যক্ষ ও গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা বলেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা রোজা রাখলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা কমে যাওয়া) ও ডিহাইড্রেশনসহ (পানিশূন্যতা) বিভিন্ন প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ইসলাম মানুষের জন্য কষ্টকর নয় এবং রমজানের পরে সুস্থ হয়ে রোজা রাখার সুযোগ রয়েছে।
রোজা ভাঙার সতর্কতা চিহ্ন সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে ঢামেকের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ জানান: রক্তের গ্লুকোজ ৩ দশমিক ৯ মিলিমোল/লিটার এর নিচে নেমে গেলে দ্রুত রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। গ্লুকোজের মাত্রা ১৬ দশমিক ৬ মিলিমোল/লিটার এর উপরে চলে গেলেও ঝুঁকি রয়েছে। তবে গ্লুকোজ ৬ দশমিক ৫ এর নিচে থাকলে ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, রোজা রেখে রক্তের গ্লুকোজ মাপলে রোজা ভাঙে না।
অধ্যাপক মুসাররাত সুলতানা আরও উল্লেখ করেন, হজ ও ওমরার সময় অনেকে অতিরিক্ত খেজুর ও জমজমের পানি পান করেন এই ভেবে যে এতে গ্লুকোজ বাড়বে না। এটি একটি ভুল ধারণা; এতে সুগার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। এ বিষয়ে হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, রোজা শুরুর অন্তত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ আগে থেকেই ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ডায়াবেটিস রোগীদের কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বর্তমানে ঢামেকের ১০২ নম্বর রুমে নিয়মিত রোগীদের কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :