আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই সংক্রমণে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আশ্বস্ত করেছে যে, এটি নতুন কোনো কোভিডের মতো মহামারির সূত্রপাত নয়।
শুক্রবার (৮ মে) এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানায়, সন্দেহভাজন আটটি ঘটনার মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জনের দেহে হান্টাভাইরাস নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এই ছয়টি কেসই ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সংক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) হান্টাভাইরাস নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কারকোহভ স্পষ্ট করে বলেন, “এটি কোনোভাবেই নতুন কোভিডের শুরু নয়”। তিনি জানান, হান্টাভাইরাস ছড়ানোর ধরন কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে একেবারেই আলাদা। এটি সাধারণত অত্যন্ত নিবিড় বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ছাড়া একজনের দেহ থেকে অন্যজনে ছড়ায় না।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘এমভি হন্ডিয়াস’ জাহাজের সকল যাত্রী ও ক্রুদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের উচ্চমাত্রার সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, ভাইরাসটির উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত প্রথম দুই ব্যক্তি আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়েতে পাখি পর্যবেক্ষণ সফরে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ভ্রমণের সময় তারা এমন কোনো স্থানের সংস্পর্শে এসেছিলেন যেখানে ভাইরাস বহনকারী বিশেষ প্রজাতির ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। বর্তমানে এই দম্পতির যাতায়াত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে আর্জেন্টিনার সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ডব্লিউএইচও।


আপনার মতামত লিখুন :