মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তাপ আরও বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, গত ১৪ দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি রি-ফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার ইরাকে একটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন ক্রু নিহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়া ৫টি বিমানই সৌদি আরবে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসের। এগুলো মূলত যুদ্ধবিমানে মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হতো। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি এবং মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। এই হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ রি-ফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় বিমানে থাকা চালক ও সহ-চালকসহ মোট ৬ জন ক্রু-ই নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে, এটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের হামলায় নয়, বরং একটি যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনা। তবে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে যে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে যথাক্রমে `অপারেশন এপিক ফিউরি` এবং `অপারেশন রোয়ারিং লায়ন` শুরু করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রি-ফুয়েলিং বিমানগুলো মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ছাড়া দূরপাল্লার যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমানের পক্ষে দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকা সম্ভব নয়। ফলে ইরানের এই লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্রিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: রয়টার্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এপি


আপনার মতামত লিখুন :