ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ: শান্তির আশায় পাকিস্তান, সংশয়ে তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ: শান্তির আশায় পাকিস্তান, সংশয়ে তেহরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই শুরু হয়েছে আস্থার সংকট। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দফায় দফায় বৈঠকের পর এই সংকট নিরসনের এক নতুন মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে সাক্ষাৎ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৈঠকে আরাঘচি যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে ইরানের ‍‍`নীতিগত অবস্থান‍‍` এবং যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন। শাহবাজ শরিফ আলোচনার এই প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং শান্তি স্থাপনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন। এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাথেও বৈঠক করেন আরাঘচি, যেখানে তেহরান তাদের নিজস্ব প্রস্তাবনাগুলো পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ইরান স্বাগত জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের মধ্যে চরম সংশয় বিরাজ করছে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অতীতে আলোচনার চলাকালীনই মার্কিন হামলার তিক্ত অভিজ্ঞতা এই আস্থাহীনতার মূল কারণ।

বি-টু বোমারু হামলা: ২০২৫ সালের জুনে যখন দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছিল, ঠিক তখনই ইরানজুড়ে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট নন, যার ফলে নতুন করে সংঘাত শুরুর শঙ্কা বাড়ছে।

সরাসরি বৈঠকের অসম্মতি: ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসবেন না। যাবতীয় বার্তা পাকিস্তানের মাধ্যমেই আদান-প্রদান করা হবে।

সংশয় থাকলেও আলোচনার পথ একেবারে বন্ধ হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। যদিও সেই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের পথে রয়েছেন।

আলোচনা যখন টেবিলমুখী, তখন মাঠের চিত্র ভিন্ন। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পাশাপাশি ইরানে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে এরফান কিয়ানি নামের এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকলেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের সফর ঘিরে ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!