ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
Daily Global News

ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা: পঙ্গু হওয়ার ঝুঁকিতে তেহরান

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা: পঙ্গু হওয়ার ঝুঁকিতে তেহরান

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ১৫তম দিনে ইরানের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘খার্গ দ্বীপ’-এ ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ‘ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী অভিযান’ বলে অভিহিত করেছেন। সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হলেও কৌশলী কারণে তেল অবকাঠামো এড়িয়ে গেছে ওয়াশিংটন, যা মূলত ইরানকে চাপে রাখার একটি বড় চাল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র প্রবাল দ্বীপটি আয়তনে ম্যানহাটন শহরের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ হলেও এটি ইরানের ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামে পরিচিত। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয় এই দ্বীপের টার্মিনাল দিয়ে।

এখানে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রাখার ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল মজুত আছে বলে জানিয়েছে ‘কেপলার’। ইরান বিশ্ববাজারের ৪.৫ শতাংশ তেল সরবরাহ করে, যার সিংহভাগই খার্গ দ্বীপের গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে সুপারট্যাঙ্কারে করে রপ্তানি হয়।

সিএনএন ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মার্কিন হামলায় দ্বীপের বিমানবন্দর, রানওয়ে, ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার এবং নৌ-মাইন মজুত করার সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ফার্স’ জানিয়েছে, তেল ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোগুলো এখন পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে পরবর্তী লক্ষ্য হবে এই তেল স্থাপনাগুলো। সাবেক মার্কিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক কিমিট বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র মূলত এই দ্বীপটিকে জিম্মি করে রেখেছে। যদি তেল অবকাঠামো ধ্বংস হয়, তবে ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে এবং বর্তমান সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে।”

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল আক্রান্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে। এতে তেলের দাম সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা চীন এই ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ আইআরজিসি সরাসরি হুমকি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে ‘আগুন ধরিয়ে দেবে’। ওমান ও বাহরাইনের তেলের ট্যাঙ্কারে সাম্প্রতিক হামলাগুলো এই হুমকিরই বাস্তব রূপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ২ হাজার ৫০০ জন মেরিন সেনার একটি ‘র‍্যাপিড রেসপন্স’ ইউনিট পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, মার্কিন বাহিনী হয়তো খার্গ দ্বীপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে এটি করতে গেলে বিশাল পদাতিক বাহিনীর প্রয়োজন হবে, যা সংঘাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, আল-জাজিরা

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!